Sunday, 9 October 2016

আহলে হাদীস আকিদা-বিশ্বাস আল্লাহর হাদীসে তাই আছে।

আহলে হাদীস আকিদা-বিশ্বাস ও বৈশিষ্ট্য হলো আপনাকে মুসলিম হতে হবে কারণ আল্লাহর হাদীসে তাই আছে।
وَمَنْ أَصْدَقُ مِنَ اللَّهِ حَدِيثًا
আল্লাহর হাদীছ অপেক্ষায় কার হাদীছ অধিক সত্য? (আন-নিসা, ৪/৮৭)
وَمَنْ أَحْسَنُ دِينًا مِمَّنْ أَسْلَمَ وَجْهَهُ لِلَّهِ وَهُوَ مُحْسِنٌ وَاتَّبَعَ مِلَّةَ إِبْرَاهِيمَ حَنِيفًا وَاتَّخَذَ اللَّهُ إِبْرَاهِيمَ خَلِيلا
আর তার অপেক্ষা কার দীন শ্রেষ্ঠ যে ব্যক্তি নিজেকে আল্লাহর নিকট আত্মসমর্পণ করল আর সৎকর্মপরায়ণ হল এবং একনিষ্ঠভাবে ইবরাহীমের পন্থা অনুসরণ করল আর আল্লাহ ইবরাহীমকে অন্তরঙ্গ বন্ধুরূপে গ্রহiণ করেছেন। (আন-নিসা, ৪/১২৫)
وَمَنْ أَحْسَنُ قَوْلا مِمَّنْ دَعَا إِلَى اللَّهِ وَعَمِلَ صَالِحًا وَقَالَ إِنَّنِي مِنَ الْمُسْلِمِينَ
আর তার চেয়ে উত্তম কথা আর কার হতে পারে যে আল্লাহর দিকে আহবান করে আর সৎকর্ম করে এবং বলে, নিশ্চয় আমি (আত্মসমর্পণকারী) মুসলিমদের অর্ন্তভুক্ত। (ফুসসিলাত, ৪১/৩৩)
بَلَى مَنْ أَسْلَمَ وَجْهَهُ لِلَّهِ وَهُوَ مُحْسِنٌ فَلَهُ أَجْرُهُ عِنْدَ رَبِّهِ وَلا خَوْفٌ عَلَيْهِمْ وَلا هُمْ يَحْزَنُونَ
হাঁ, যে নিজেকে আল্লাহর কাছে সমর্পণ করেছে আর সে সৎকর্মশীলও হয়েছে তবে তার জন্য তার রবের নিকট প্রতিদান রয়েছে, তাদের কোন ভয় নেই  আর তারা চিন্তিত হবে না। আল-বাকারাহ, ২/১১২
Saidur Rahmanbd

তাগুত, গাইরুল্লাহর ইবাদত করা , আবার মূর্তি পুজা শুরু হবে

ইসলাম প্রতিষ্ঠিত হয়েছে সমস্ত মানুষকে এক আল্লাহর দিকে ডাকার জন্য। আর সাথে সাথে আউলিয়া কিংবা অন্যান্য নেককারদের অথবা অন্য কোন গাইরুল্লাহর ইবাদত করা হতে বিরত রাখার জন্য। এদের পূজা করা হয় মূর্তি, ভাস্কর অথবা ছবি বানিয়ে। এই দাওয়াত বহু পূর্ব হতে চালু হয়েছে, যখন থেকে আল্লাহপাক তাঁর রাসূলদের প্রেরণ করা শুরু করেছেন মানুষের হিদায়েতের জন্য।

আল্লাহ তায়ালা বলেনঃ
وَلَقَدْ بَعَثْنَا فِي كُلِّ أُمَّةٍ رَسُولًا أَنِ اُعْبُدُوا اللَّهَ وَاجْتَنِبُوا الطَّاغُوتَ (النحل 36)
আর অবশ্যই আমি প্রত্যেক জাতির নিকট রাসূল প্রেরণ করেছি এই বলে যে, তোমরা এক আল্লাহর ইবাদত কর, আর তাগুত(তাগুত হচ্ছে ঐ সমস্ত ব্যক্তি বা জিনিস যাদের ইবাদত করা হয় আল্লাহকে ছেড়ে, আর তাতে তারা রাজী খুশী থাকে) থেকে বিরত থাক। (সূরা নাহলঃ ৩৬ )
এই সমস্ত মূর্তির কথা সুরা নুহতে উল্লেখিত হয়েছে। এতে সবচেয়ে বড় দলিল হল, ঐ মুর্তিগূলি ছিল ঐ যামানার সর্বোত্তম নেককারগণের। এই হাদীস ইবনে আব্বাস রা. হতে বুখারীতে বর্ণিত হয়েছে আল্লাহপাকের ঐ কথার ব্যাখ্যায়ঃ
وَقَالُوا لَا تَذَرُنَّ آَلِهَتَكُمْ وَلَا تَذَرُنَّ وَدًّا وَلَا سُوَاعًا وَلَا يَغُوثَ وَيَعُوقَ وَنَسْرًا ﴿23﴾ وَقَدْ أَضَلُّوا كَثِيرًا (نوح 23-24)
আর তারা বলল. তোমরা কোন অবস্থাতেই তোমাদের উপাস্যদেরকে পরিত্যাগ কর না, আর ওদ্দা, সূয়া, ইয়াগুছ, ইয়াউক ও নাসরাকে কক্ষনই পরিত্যাগ কর না। আর তারা তো অনেককেই গোমরাহ করেছে। (সূরা নূহঃ ২৩ ও ২৪)
তিনি বলেনঃ তারা ছিলেন নূহ আ. কওমের নেককার বান্দা। যখন তারা মৃত্যুমুখে পতিত হন তখন শয়তান তাদের গোপনে কুমন্ত্রনা দেয় যে তারা যে সমস্ত স্থানে বসত সেখানে তাদের মূর্তি বানিয়ে রাখ, আর ঐ মূর্তিদেরকে তাদের নামেই পরিচিত কর। তখন তারা তাই করল, কিন্তু তখনও তাদের ইবাদত শুরু হয়নি। তারপর যখন ঐ যামানার লোকেরাও মারা গেল, তখন তাদের পরের যামানার লোকেরা ভূলে গেল যে, কেন ঐ মূর্তিগুলির সৃষ্টি করা হয়েছিল। তখনই তাদের পুজা শুরু হয়ে গেল। (ফতহুল বারী ৬/৭ পৃষ্ঠা)।
এই ঘটনা হতে এটা শিক্ষা পাওয়া যায় যে, গাইরুল্লাহর ইবাদতের কারণগুলির একটি হল এই যে, জাতীয় নেতাদের মূর্তি তৈরী করা। তাদের প্রতিকৃতিতে ফুল দেয়া,সম্মানের নামে দাঁড়িয়ে এক মিনিট নিরবতা পালনকরা এসব করা মানেই ইবাদতে শির্ক করা আল্লাহর সাথে। তাই যারা নামাযও পড়েন আবার নিজেদের নেতা-নেত্রীর পিতা বা স্বামীর কবরে গিয়ে পূস্পমাল্য অর্পণ করেন তাদেরকে সাবধান হতে বলছি, তাওবা করার আগেই যদি মৃত্যু এসে যায় তাহলে দুনিয়াবি সব প্রচেষ্টাই ব্যর্থ হবে নিশ্চয়ই। আল্লাহ আমাদেরকে হেদায়েতের পথে পরিচালিত করুন........আমীন।
------------------------------------------------
কিয়ামতের পূর্বে মুসলিমদের মাঝে আবার মূর্তি পুজা শুরু হবেঃ
**************************************************************
আবু হুরায়রাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নাবী (সাঃ)-কে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেনঃ ‘’কিয়ামত সংঘটিত হবে না, যতক্ষণ ‘যুলখালাসার’ পাশে দাওস গোত্রের মহিলাদের নিতম্ব দোলায়িত না হবে’’ বুখারী ৭১১৬; মুসলিম ৭১৯০-(৫১/২৯০৬)
নোটঃ (যুলখালাসাহ হল দাওস গোত্রের মূর্তি। ইয়ামানের যুলখালাস নামক স্থানে দাওস বংশের এই মূর্তি ছিল, কোন বর্ণনায় এই স্থানের নাম তাবালাহ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। অজ্ঞতার যুগে তারা এর ইবাদত করতো, সেখানে তাওয়াফ (চক্কর) দেয়া হতো)
মুসলিমদের কোনো কোনো বংশ মূর্তিপূজা আরম্ভ করবে আর কিছু সংখ্যক মুশরিকদের সাথে মিলে যাবেঃ
রাসুল (সাঃ)-এর আযাদকৃত গোলাম সাওবান (রাঃ) হতে বর্ণিত। রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেনঃ ''আমি আমার উম্মাতের ব্যাপারে ভয় করছি পথভ্রষ্ট নেতৃবৃন্দের। অচিরেই আমার উম্মাতের কোনো কোনো গোত্র বা সম্প্রদায় প্রতিমা পুজায় লিপ্ত হবে এবং আমার উম্মাতের কতক গোত্র মুশরকিকদের সাথে যোগ দিবে’’ আবু দাউদ ৪২৫২; ইবন মাযাহ ৩৯৫২ (আলবানি সহীহ বলেছেন)
কিয়ামতের পূর্বে 'লাত' ও 'উজ্জার' পুজা এমনভাবে শুরু হবে যেভাবে অন্ধকার যুগে ছিলঃ
আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ (সাঃ)-কে বলতে শুনেছিঃ রাত ও দিন শেষ হবে না, যতক্ষন না লাত ও উযযা দেবতার পুজা আবার শুরু করা হয়। এ কথা শুনে আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসুল! পবিত্র কুরআনে মহান আল্লাহ নাযিল করেছেন- ‘তিনি তাঁর রাসুলকে পাঠিয়েছেন হিদায়াত ও সত্য দ্বীন সহকারে, সকল দ্বীনের উপর বিজয়ী করার জন্য, যদিও মুশরিকরা তা অপছন্দ করে’ (তাওবা ৯/৩৩) এই আয়াত নাযিলের পর আমি (আয়িশাহ) তো মনে করেছিলাম যে, এ প্রতিশ্রুতি পুরন করা হবে।
রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বললেনঃ ‘’তা অবশ্যই হবে। তবে যতদিন আল্লাহ ইচ্ছা করবেন ততদিন পর্যন্ত তা বলবৎ থাকবে। অতঃপর তিনি এক মনোরম বাতাস প্রেরন করবেন। ফলে যাদের অন্তরে সরিষার দানা পরিমান ঈমান আছে তাদের প্রত্যেকেই মৃত্যুবরণ করবে। পরিশেষে যাদের মাঝে কোন কল্যাণ নেই তারাই শুধু বেঁচে থাকবে। অতঃপর তারা আবার পিতৃ-পুরুষদের ধর্মের (শিরকের) দিকে ফিরে যাবে’’ মুসলিম ৭১৯১-(৫২/২৯০৭)
মহান আল্লাহ আমাদের প্রকাশ্য ও গোপন, নামে ও বেনামে সকল ধরনের মূর্তি পুজা থেকে নামক শিরকি কর্মকাণ্ড থেকে হেফাযত করুন।
Sanaullah salafibd