Sunday, 27 September 2015

তোমরা সকলে মিলে আল্লাহর রজ্জুকে দৃঢ়ভাবে আকড়ে ধরে এবং পরস্পর বিচ্ছিন্ন হয়ে যেওনা (সূরা আল ইমরান - ১০৩)

এটা সত্য যে আজকের মুসলিমরা অনেক দলে-উপদলে বিভক্ত।এটা দুঃখজনক যে, এই বিভক্তি ইসলামে মোটেই অনুমোদিত নয় ।ইসলাম তার অনুসারীদের নিরেট ঐক্যে বিশ্বাসী ।
আল-কুরআন বলে - - "তোমরা সকলে মিলে আল্লাহর রজ্জুকে দৃঢ়ভাবে আকড়ে ধরে এবং পরস্পর বিচ্ছিন্ন হয়ে যেওনা" (সূরা আল ইমরান - ১০৩)
আল-কুরআনই হলো আল্লাহর সেই রজ্জু বা রশি যাকে ঐক্যবদ্ধভাবে সকল মুসলমানের আঁকড়ে ধরা উচিত ।
কুরআনে আরও বলা হয়েছে - - "তোমরা অনুগত্য করো আল্লাহর এবং অনুগত্য করো রাসূলের" (সূরা নিসা - ৫৯)
অতএব মুসলিমদের আল-কুরআন ও সহীহ হাদিসসমুহের অনুসরণ করা উচিত এবং পরস্পর মতপার্থক্য করা উচিত নয় ।
# ইসলামে দলাদলি ও বিভক্তি নিষিদ্ধ :-
পবিত্র কুরআনে আল্লাহ্ বলেন -- "নিশ্চয়ই যারা নিজেদের দ্বীনকে খন্ড-বিখন্ড করে ফেলেছে এবং বিভিন্ন দলে বিভক্ত হয়ে গেছে, তাদের সাথে আপনার
কোন সংশ্লিষ্টতা নেই ।তাদের বিষয় আল্লাহর হাতে ন্যস্ত।অতঃপর তিনি তাদেরকে জানিয়ে দিবেন যা তার করতো" (সূরা আন্-আম :১৫৯)
এ আয়াতে আল্লাহ্ বলেছেন যে, যারা নিজেদের দ্বীনকে খন্ড-বিখন্ড করে নিয়েছে এবং বিভিন্ন দলে বিভক্ত হয়ে গেছে, তাদের থেকে নিজেদের দুরে সরিয়ে রাখা উচিত ।
কিন্তু যখন একজন মুসলিম প্রশ্ন করে বসে, আপনি কে? তখন আমাদের একটি সাধারণ উত্তর হলো, 'আমি একজন সুন্নী' অথবা 'আমি একজন শীয়া' অনেকে তাদের নিজেদেরকে 'হানিফী' অথবা 'শাফেয়ী' অথবা 'মালেকী' অথবা 'হাম্বলী' বলে পরিচয় দেয় ।
# আমাদের নবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) ছিলেন একজন মুসলিম মাত্র :--
কেউ প্রশ্ন করতে পারে যে, 'আমাদের প্রিয় নবী (সাঃ) কি ছিলেন..? তিনি কি 'হানাফী' ছিলেন নাকি 'শাফেয়ী' নাকি 'মালেকী' নাকি 'হাম্বলী' - এর উত্তর হলো "না" তিনি পূর্বে আগত নবী-রাসুলদের মতই একজন মুসলিম ছিলেন ।আল-কুরআনএর সুরা আল ইমরানের ৫২নং আয়াতে বলা হয়েছে :--
"ঈসা (আঃ) ও তার অনুসারীরা মুসলিম ছিলেন" ।উক্ত সূরার ৬৭নং আয়াতে বলা হয়েছে যে :--" হযরত ইব্রাহীম (আঃ) ইয়াহুদী বা খ্রিস্টান কোনটাই ছিলেন না, তিনি ছিলেন একজন খাঁটি মুসলিম ।
# আল-কুরআন নিজেদেরকে 'মুসলিম' বলে পরিচয় দিতে বলে :--
* কেউ যদি কোন মুসলিমকে জিজ্ঞেস করে, তুমি কে..? তখন উত্তরে তার বলা উচিত যে, 'আমি একজন মুসলিম --' 'হানাফী 'ও নয় ' শাফেয়ী 'ও নয়।
আল্লাহ্ বলেন, "আর তার চেয়ে কার কথা অধিক উত্তম, যে মানুষকে আল্লাহর প্রতি আহ্বান করে এবং নিজেও সৎকর্ম করে ।আর বলে, আমিতো একজন" মুসলিম তথা আত্মসমর্পণকারী "(আল-কুরআন ৪১:৩৩)
# ইসলামের সুবিজ্ঞ মহান ব্যক্তিদের প্রতি সম্মান :- আমাদের অবশ্যই ইসলামের সুবিজ্ঞ আলেমদের প্রতি সন্মান দেখাতে হবে, যাদের মধ্যে রয়েছে চার ইমাম :যথা ইমাম আবু হানিফা , ইমাম শাফেয়ী, ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল এবং মালিক (রহঃ) আল্লাহ তাদের প্রতি অনুগ্রহ বর্ষন করুন ।

তারা ছিল ইসলামের জ্ঞানে সুবিজ্ঞ ব্যক্তিত্ব ।আল্লাহ্ তাদেরকে তাদের জ্ঞান-গবেষনার জন্য উত্তম পুরষ্কার দান করুন । সর্ব সাধারণ মানুষের মধ্যে কেউ চার ইমামের কাউকে অনুসরণ করলে কোনো সমস্যা নেই, কিন্তু 'তুমি কে..? এই প্রশ্নের উত্তরে তাকে বলতে হবে,
আমি মুসলিম ।কেউ কেউ সুনানে আবু দাউদের৪ ৫ ৭ ৯ নং হাদিসটির উদ্ধৃতি দিয়ে যুক্তি দেখাতে পারেন যে, এ বিভক্তির কথা স্বয়ং রাসুল (সাঃ) বলে গেছেন ।উক্ত হাদিসে রাসূলুল্লাহ (সাঃ) ইরশাদ করেছেন, "আমার উম্মত ৭৩ দলে বিভক্ত হবে"।
হাদীসটির মর্ম হলো রাসূলুল্লাহ (সাঃ) তার উম্মতের পরিনতি সম্পর্কে ভবিষ্যদ্বানী করেছেন যে, তর উম্মতের অবস্থা এমন হবে যে, তারা মতপার্থক্যে জড়িয়ে পড়বে, এমনকি তারা ৭৩টি দলে বিভক্ত হয়ে পড়বে ।
তিনি এ কথা বলেননি যে ৭৩টি দলে বিভক্ত হয়ে কাজ করতে হবে ।কুরআন মাজীদ আমাদেরকে দলে-উপদলে বিভক্ত হতে কঠোরভাবে নিষেধ করেছে ।যারা কুরআন ও সহীহ হাদীসের নির্দেশ মেনে চলে এবং দল-উপদল সৃষ্টি করে না, তারাই সঠিক সত্য পথে আছে ।

তিরমিজী ১৭১নং হাদিস অনুসারে রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন, "আমার উম্মতগন ৭৩ দলে বিভক্ত হয়ে পড়বে, এবং একটি দল ছাড়া বাকি সব দলই জাহান্নামে যাবে ।" সহাবায়ে কিরাম আরজ করলেন, হে আল্লাহর রাসূল! সেই দল কোনটি হবে? তিনি উত্তরে বল্লেন, "সেই দলটি হবে যার মধ্যে আমি এবং আমার সাহাবায়ে কিরাম থাকবে" ।

কুরআন মসজিদের বেশ কিছু আয়াতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, "তোমরা আল্লাহ্‌র অনুগত্য করো এবং আনুগত্য করো তাঁর রাসূলের" এক জন খাঁটি মুসলিমের উচিত হলো আল্লাহর কিতাব আল-কুরআন এবং তাঁতে রাসুলের সহীহ হাদিসসমুহের নির্দেশ মেনে চলা ।সে যে কোনো ইসলামি বিশেষজ্ঞের মত অনুসরণ করতে পারে,
যদি সে বিশেষজ্ঞ কুরআন ও সহীহ হাদিসের অনুসারী হয়ে থাকে ।কিন্তু যদি তার মত আল্লাহর কিতাব ও তার রসুলের সহীহ হাদীসের থেকে সাংঘঠিক হয়, তাহলে তার মতের কোনো মূল্যই নেই --এতে সে যত বড় বিশেষজ্ঞই হোকনা কেন ।

যদি সকল মুসলিম কুরআনকে বুঝে পড়ে এবং সেই মূলনীতি অনুসারে রাসূলের হাদীসসমুহকে অনুসরণ করে, তবে ইনশাআল্লাহ সকল মত পার্থক্য দূর হয়ে যাবে এবং আমরা সবাই একটি ঐক্যবদ্ধ মুসলিম উম্মাহ হিসেবে গড়ে উঠবো ।

1 comment:

  1. অসাধারন, আল্লাহ আপনাকে দীর্ঘজীবি করুন।

    ReplyDelete