Mamunar Rashid Oni
feeling motivated with ইসলামিক দাওয়াহ and 9 others at আকুনজী বাড়ী.
আহলে হাদীসের প্রতি কটাক্ষের সুরে ‘লামাযহাবী’ মাযহাব বিদ্ধেষী হাদীস অমান্যকারী প্রভৃতি শব্দ ব্যবহার করেছেন, আহলে হাদীস যে কারা?
এবং এই কটাক্ষ কোথায় যেয়ে যে লাগবে এ আক্কেলটুকু তার থাকলে কখনই এই শব্দ তিনি ব্যবহার করতে পারতেন না।
এবং এই কটাক্ষ কোথায় যেয়ে যে লাগবে এ আক্কেলটুকু তার থাকলে কখনই এই শব্দ তিনি ব্যবহার করতে পারতেন না।
আহলে হাদীসরা ইসলামে দলাদলি ও ভাগাভাগি পছন্দ করেন না বলে আলেম সাহেব যদি
তাদেরকে ‘লামাযহাবী’ মাযহাব বিদ্ধেষী বলে কটাক্ষ করেন তাহলে তারা নাচার।
এখন যদি আলেম সাহেবকে কেউ জিজ্ঞেস করেন, বলুন তো চার ইমামের জন্মের আগে চার ফেরকা ছিল কোথায়? আর এই প্রশ্নের জওয়াব যদি তিনি মাথা ঠান্ডা করে দিতে যান, তাহলে মুসলমানদের মাঝে দলাদলি আর ভাগাভাগি থাকবে কি?
এখন যদি আলেম সাহেবকে কেউ জিজ্ঞেস করেন, বলুন তো চার ইমামের জন্মের আগে চার ফেরকা ছিল কোথায়? আর এই প্রশ্নের জওয়াব যদি তিনি মাথা ঠান্ডা করে দিতে যান, তাহলে মুসলমানদের মাঝে দলাদলি আর ভাগাভাগি থাকবে কি?
একথা তো
ঠিক যে, মহামতি ইমাম চতুষ্টয়ের কেউই রসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি
ওয়াসাল্লাম ২৩ বছরের নবী জীবনের সব হাদীস সংগ্রহ করতে পারেননি।
কাজেই যিনি যত কম হাদীস সংগ্রহ করেছিলেন তাকে তত বেশি কিয়াসের আশ্রয় নিতে হয়েছিল।
কাজেই যিনি যত কম হাদীস সংগ্রহ করেছিলেন তাকে তত বেশি কিয়াসের আশ্রয় নিতে হয়েছিল।
অবশ্য প্রত্যেক ইমামই বলে গেছেন, আমার কথা আল্লাহর নবী রসুল সাল্রাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কথার সাথে মিলিয়ে দেখো, যদি মিলে যায় উত্তম। আর না
মিললে আমার কথা ছেড়ে দিয়ে রসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কথা
মেনে নিও।
কিন্ত পরবর্তী যুগে তা আর হলো না।
কিন্ত পরবর্তী যুগে তা আর হলো না।
১৫০ হিজরীতে ইমাম
আবু হানিফা রহমাহুল্লাহ ইন্তেকাল করলেন। তার ইন্তেকালের পর দেখা গেল তাঁর
ছাত্ররা যেসব মাদ্রাসা তৈরি করলেন, সেইসব মাদ্রাসার সিলেবাসে ইমাম সাহেবের
রায় ও সিদ্ধন্তগুলোকে ঢুকিয়ে দিয়ে হানাফী মাযহাব কায়েম করলেন এবং নিজেদেরকে
হানাফী বলে পরিচয় দিতে লাগলেন।
১৭৯ হিজরীতে যখন ইমাম মালেক রহমাহুল্লাহ ইন্তেকাল করলেন, তার ছাত্ররাও তাদের ইমাম মালেকের সিদ্ধন্তগুলোকে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত মাদ্রাসার পাঠ্য তালিকায় ঢুকিয়ে দিয়ে মালেকী মাযহাব কায়েম করলেন এবং নিজেদেরকে মালেকী বলে পরিচয় দিতে লাগলেন।
১৭৯ হিজরীতে যখন ইমাম মালেক রহমাহুল্লাহ ইন্তেকাল করলেন, তার ছাত্ররাও তাদের ইমাম মালেকের সিদ্ধন্তগুলোকে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত মাদ্রাসার পাঠ্য তালিকায় ঢুকিয়ে দিয়ে মালেকী মাযহাব কায়েম করলেন এবং নিজেদেরকে মালেকী বলে পরিচয় দিতে লাগলেন।
২০৪ হিজরীতে ইমাম শাফেয়ী রহমাহুল্লাহ যখন ইন্তেকাল করলেন তখনও দেখা গেল
ইমাম শায়েয়ীর ছাত্ররা ইমাম সাহেবের সিদ্ধান্তগুলোকে নিজেদের মাদ্রাসায়
পড়াতে শুরু করে দিলেন এবং নিজেদেরকে শাফেয়ী বলে পরিচয় দিতে লাগলেন।
আর ২৪১ হিজরীতে যখন ইমাম আহমদ বিন হাম্বল রহমাহুল্লাহ ইন্তেকাল করলেন, তার
ছাত্ররাও তাদের ইমাম ইমাম আহমদ বিন হাম্বলের সিদ্ধন্তগুলোকে নিজেদের
প্রতিষ্ঠিত মাদ্রাসার পাঠ্য তালিকায় ঢুকিয়ে দিয়ে হাম্বলী মাযহাব কায়েম
করলেন এবং নিজেদেরকে হাম্বলী বলে পরিচয় দিতে লাগলেন।
তাহলে এখানে
পরিস্কার দেখা যাচ্ছে, চার ইমামের জীবনদ্দশাতেও কোন মুসলমান নিজেদেরকে
হানাফী, শাফেয়ী, মালেকি, হাম্বলী বলে পরিচয় দেননি। শাহ্ ওলীউল্লাহ
মুহাদ্দেস দেহলবী(রহ) তাঁর ‘‘ইযালাতুল খফা’’ গ্রন্থে লিখেছেন, বনু উমাইয়া
শাসনের অবসানকাল অর্থাৎ ১৫০ হিজরী পযর্ন্ত কোন মুসলমান নিজেকে হানাফী,
শাফেয়ী, মালেকি, হাম্বলী বলতেন না। এসব নামকরণ হলো ইমামদের ইন্তেকালের পরে।
তারপর এখতেলাফী বিষয় নিয়ে ঝগড়া-বিবাদ করে চার ফেরকার লোকেরা কি অনর্থের সৃষ্টি করেছিল, বাগদাদের পতন কাহিনীর ইতিহাস যারা পড়েছেন তাদের অজানা নেই। এত করেও চেতনা ফেরেনি।
৮০১ হিজরীতে ফারাহ বিন বারকুকের সময় কাবা ঘরের চারদিকে ফেরকাপোরস্তরা চার মুসল্লা কয়েম করে তবে ছাড়লো।
এক মাযহাবের লোক অন্য মাযহাবের ইমামের পিছনে সলাত পরতো না।।
একই কাবার সামনে প্রত্যেক সালাতের জন্য ৪ টা জামাত হত!!!!
যা হোক, আল্লাহর অসীম অনুগ্রহে বাদশাহ ইবনে সাউদ চার মুসাল্লা উঠিয়ে দিয়ে এক জামাত কায়েম করেছেন। এখন সেখানে শৃংখলার সাথে একই জামাতে নামায হয়ে থাকে।
তারপর এখতেলাফী বিষয় নিয়ে ঝগড়া-বিবাদ করে চার ফেরকার লোকেরা কি অনর্থের সৃষ্টি করেছিল, বাগদাদের পতন কাহিনীর ইতিহাস যারা পড়েছেন তাদের অজানা নেই। এত করেও চেতনা ফেরেনি।
৮০১ হিজরীতে ফারাহ বিন বারকুকের সময় কাবা ঘরের চারদিকে ফেরকাপোরস্তরা চার মুসল্লা কয়েম করে তবে ছাড়লো।
এক মাযহাবের লোক অন্য মাযহাবের ইমামের পিছনে সলাত পরতো না।।
একই কাবার সামনে প্রত্যেক সালাতের জন্য ৪ টা জামাত হত!!!!
যা হোক, আল্লাহর অসীম অনুগ্রহে বাদশাহ ইবনে সাউদ চার মুসাল্লা উঠিয়ে দিয়ে এক জামাত কায়েম করেছেন। এখন সেখানে শৃংখলার সাথে একই জামাতে নামায হয়ে থাকে।
বলাবাহুল্য, ফেরকা-পোরস্তরা কেবল আল্লাহর দ্বীনাকে চার
মাযহাবে বিভক্ত করেই ক্ষান্ত হননি। পরবর্তীকালে ১৩০ ফরজ নাম দিয়ে যেসব লেখা
বের করা হয়েছে তাতে চার মাযহাবকে চার ফরজ বলে প্রচার করা হয়েছে। হানাফী
মাযহাবের একজন যোগ্য আলেম ও লেখন নোয়াখালি জেলার সাত্রাপাড়া নির্বাসী আলহাজ
কাজী মাওলানা মো: গোলাম রহমান সাহেবের লেখা ‘‘ মকছুদল মোমেনীন’ বা
বেহেশতের কুঞ্জি’’ বই খানার ১৪১ পৃষ্ঠায় দেখছি, লেখক ১৩০ ফরজ গণনা করতে
গিয়ে লিখেছেন— ‘‘৪ মাযহাব ৪ ফরজ। যথা হানাফী, শাফেয়ী, মালেকি, হাম্বলী।
নাবী(স) এর মৃত্যুর ৪০০ বছর পর মাযহাব আসল আর সেইটা আবার ফরজ হয়ে গেল!!!!
আসলে জ্ঞান পাপী হলে যা হয় আর কিছু না!!
একটা ছোট বাচ্চাও জানে,যে বিধান সম্পর্কে আল্লাহর সরাসরি নির্দেশ পাওয়া যায় তা ফরজ!!!
নাবী(স) থেকে যদি কোন আবশ্যক হুকুমও আসে তবে তা ফরজ হিসেবে গন্য হবে না,তা হবে ওয়াজিব!!
অর্থাৎ আপনার মৃত্যুর ৪০ বছর পর আপনার স্ত্রীর সন্তান হল সেই সন্তান আপনার হিসেবে দাবী করা আর মাযহাব একটা মানা ফরজ ফাতওয়া দেয়া একই কথা!!
নাবী(স) এর মৃত্যুর ৪০০ বছর পর মাযহাব আসল আর সেইটা আবার ফরজ হয়ে গেল!!!!
আসলে জ্ঞান পাপী হলে যা হয় আর কিছু না!!
একটা ছোট বাচ্চাও জানে,যে বিধান সম্পর্কে আল্লাহর সরাসরি নির্দেশ পাওয়া যায় তা ফরজ!!!
নাবী(স) থেকে যদি কোন আবশ্যক হুকুমও আসে তবে তা ফরজ হিসেবে গন্য হবে না,তা হবে ওয়াজিব!!
অর্থাৎ আপনার মৃত্যুর ৪০ বছর পর আপনার স্ত্রীর সন্তান হল সেই সন্তান আপনার হিসেবে দাবী করা আর মাযহাব একটা মানা ফরজ ফাতওয়া দেয়া একই কথা!!
আমরা বলতে চাই, যাদের আল্লাহ এক, নবী এক, কাবা এক, কুরআন এক- তাদেরকে একই
হতে হবে। ইসলামকে নিয়ে ভাগ-বাটোয়ারা চলবে না। আল্লাহ বলে, ‘‘ওয়াতাসেমু
বিহাবলিল্লাহি জামিআও ওয়ালা তাফাররাকু’’ (সূরা আল-ইমরান আয়াত ১০৩) তোমরা
আল্লাহ বিধানকে মজবুত করে ধরে থাকো। খবরদার বিভিন্ন দলে ও বিভিন্ন মতে
বিভক্ত হয়ো না।
আল্লাহ ফজলে ১৫০ হিজরী পর্যন্ত মুসলমানরা মাযহাবী ফেরকায় বিভক্ত হয়নি। পরবর্তী যুগে অখন্ড মুসলিম জামাতের মাঝে ফাটল ধরানো হয়েছে। এই ফাটল ধরিয়ে দিয়ে কেউ যদি আহ্লাদে আটখানা হয়ে বলে, আমরা মস্ত বড় বাহাদুরি করছি তাহলে তাদেরকে আর কি বলা যাবে?
আলেম সাহেব যদি মহামতি ইমামগণের দিকে লক্ষ্য করেন তাহলে পরিস্কারভাবে দেখতে পাবেন তারা প্রত্যেকেই আহলে হাদীস ছিলেন।ইমাম আবু হানিয়া রহমাহুল্লাহ বলেছেন, ইযা সাহহাল হাদীস ফাহুয়া মাযাহাবী’’- যখন সহীহ হাদীস পাবে সেটাকে আমার মাযহাব বলে জানবে। (রদ্দুল মহতার-১, পৃষ্ঠা:-৪৬২।
ইমাম সাহেব আরও বলেছেন, ইযা রাআয়তুম কালামানা ইয়োখালেকু যাহেরাল কিতাবে ওয়াস সুন্নাতে, ফামালু বিল কিতাবে ওয়াস সুন্নাতে ওয়াযরেবু বেকালামিনাল হায়েত’’- তোমরা যদি আমার কোন কথা কুরআন ও সুন্নাতের বিপরীত দেখতে পাও তাহলে আমার কথাকে দেওয়ালের গায়ে পটকা মেরে ফেলে দিয়ে, কুরআন ও সুন্নাহ মোতাবেক আমল করবে। (মীযানে কুবরা-১, পৃ: ৫৭)।
ইমাম আজম আরও বলেছেন, উতরুকু কাওলী বেখাবরে রাসুলিল্লাহে সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম’’ আল্লাহ রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কথার মোকাবিলায় তোমরা আমার কথাকে ছেড়ে দিও। (ইকদুলজীদ, পৃ:৫৪)।
অনুরূপভাবে ইমাম মালেক রহমাহুল্লাহ এ কথাই বলেছেন, ‘‘ইন্নামা আনা রাশারুন, উসীবো ওয়া উখতি, ফা আরেযু কাওলি আ’লাল কিতাবে ওয়াস্ সুন্নাতে লা তোকাল্লেদূনী’’- আমি একজন মানুষ মাত্র। কোন বিষয়ে আমার সিদ্ধান্ত ঠিকও হতে পারে আবার ভুলও হতে পারে। অতএব তোমরা আমার কথা কুরআন ও সুন্নাহর দ্বারা যাচাই করে দেখবে। খবরদার তোমরা আমার অন্ধ অনুসরণ করো না। (ফতোয়া ইবনে তায়মিয়াহ-২, পৃ: ৩৮৪)।
ইমাম শাফেয়ী রহমাহুল্লাহ ঠিক অনুরূপ কথাই বলেছেন, তিনি বলেন, ‘‘লা হুজ্জাতা ফি কাওলে আহা’দিন দুনা রাসূলিল্লাহে সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, লা-ফী কিয়াসিন ওলা ফী শায়ইন’’-আল্লাহ রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কথা ব্যতীত কাহারো কথাই দলিল নয়। কিয়াস হোক কিংবা অন্য কোন ব্যাপারে হোক।(হুজ্জাতুল নাহিণ বালেগা,পৃ:১২৬)।
ইমাম আহমদ বিন হাম্বল রহমাহুল্লাহ বলেছেন, ‘‘লা তুকাল্লিদুনী ফী কুল্লে মা আকুলো’’- আমার প্রতিটি কথার তোমরা অন্ধ অনুসরণ করো না। (মীজান)
মহামতি ইমাম সাহেবগণ এ ধরণের বহু কথা বলে গেছেন। এখন যদি মুসলমানদের একটি দল ইমাম সাহেবদের আদেশকে শিরোধার্য করে কুরআন ও সুন্নাহকে প্রাধ্যান্য দেন; আর আলেম সাহেব যদি তাদেরকে ‘লা মাযহাবী’ বলে বিদ্রুপ করেন তাহলে তার কথার কি কেউ সমর্থন দিবে? তিনি জেনে রাখুন, আহলে হাদীসরা মহামতি ইমামগনকে গভীরভাবে শ্রদ্ধা করেন। চার মাযহাবকে তারা কখনো ঘৃণা করেন না। তবে যে মাযহাবের যে যে দলিল কুরআন ও সহীহ সুন্নাহর সাথে অধিকতর সুসমঞ্জস্য সেই দলিলকেই তার গুরুত্ব দিয়ে থাকেন। হানাফী ফেকার কোন দলিলের চেয়ে শাফেয়ী মাযহাবের কোন দলিল যদি কুরআন ও সহীহ সুন্নাহর সাথে অধিকতর সুসমঞ্জস্য হয় তাহলে আহলে হাদীসরা সেই শাফেয়ী মাযহাবের দলিলকেই মেনে চলেন। আবার শাফেয়ী মাযহাবের কোন দলিলের চেযে হানাফী মাযহাবের কোন দলিল যদি কুরআন ও সহীহ সুন্নাহর সাথে অধিকতর সুসমঞ্জস্য হয়। তাহলে আহলে হাদীসরা হানাফী মাযহাবের সেই দলিল মেনে চলেন। এভাবে চার মাযহাব সম্পর্কেই তারা এই নীতি অবলম্বন করে চলেন। বলতে গেলে আহলে হাদীসরা চার মাযহাবেই আছেন। আহলে হাদীসরা কুরআন ও সহীহ হাদীসের উপরই আছেন। আল্লাহ ফজলে আহলে হাদীসরা সঠিক পথেই আছেন।
এবার আলেম সাহেবকে যদি কেউ জিজ্ঞেসা করেন, আচ্ছা বলুনতো, চার ইমামের আগে যেসব মুসলমান ছিলেন, তারা কোন মাযহাবে ছিলেন? চার খলিফার মাযহাব কি ছিল? সাহাবায়ে কেরাম ও তাবেয়ীগণের মাযহাব কি ছিল? তখন তো চার ইমামের জন্ম হয়নি তার চার মাযহাবও কায়েম হয়নি। তাহলে আলেম সাহেবের কথা মত তারা কি ‘লা মাযহাবী’’ ছিলেন? তাই বলছিলাম, আলেম সাহেব আহলে হাদীসদেরকে যে ‘লা মাযহাবী’ বলে কটাক্ষ করেছেন সে কটাক্ষ কোথায় গিয়ে লাগছে একথা কি জনাবের মগজে ঢুকছে? তিনি যে সব সময় সৈয়দ মহিউদ্দীন আবদুল কাদের জিলানীর রহমাহুল্লাহ একটা কথা স্মরণ রাখেন। তিনি বলেছেন, বেদআতী লোকের আলামত হচ্ছে আহলে হাদীসগণকে মন্দ বলা। তিনি আরও বলেছেন, এই হক জামাতের একটি মাত্র নাম আছে। তাছাড়া অন্য কোন নাম নেই এবং তা হচ্ছে ‘আহলে হাদীস’’ (গুনিয়াতুত তালেবীন, ১ম খন্ড, পৃ: ৯০,মিসরী ছাপা)।
সাহাবায়ে কেরাম ও তাবেয়ীগণ যে আহলে হাদীস ছিলেন এ কথা যদি তিনি জানতে চান তাহলে তাযকিরাতুল হুফফাযের ১ম খন্ড ২৯ পৃষ্ঠা খুলে দেখবেন আবু হুরায়রা রাদিআল্লাহআনহু নিজেকে আহলে হাদীস বলতেন।
তারিখে বাগদাদের ৫ম খন্ড ২২৮ পৃষ্ঠা খুলে দেখুন, আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাসকে রাদিআল্লাহআনহু আহলে হাদীস বলা হতো।
খতিব, বাগদাদীর কিতাবুশ শরফের ২১ পৃষ্ঠা খুলে দেখুন, আবু সাঈদ খুদরী তাবেয়ীগণকে লক্ষ্য করে বলতেন, তোমরাই আমাদের স্থলাভিষিক্ত এবং আমাদের পর তোমরাই আহলে হাদীস।
তাযকিরাতুল হুফফাযের (১৪) ৭২ পৃষ্ঠায় দেখবেন, ইমাম শাবী পাঁচশ সাহাবার সাক্ষাত লাভ করেছিলেন। এবং ৪৮ জন সাহাবার নিকট হাদীস পড়েছিলেন। তিনি সাহাবাদের সকলকেই আহলে হাদীস বলতেন।
আবদুল কাহের বাগদাদীর উসুলুদদীনের ১ম খন্ড, ৩১৭ পৃষ্ঠা খুলে দেখুন লেখা আছে, ‘‘সগুরুর রুমে ওয়াল জাযিরাতে ওয়াশ শামে ওয়া আজার বায়জান, ওয়া বাবুল আবওয়াবে কুল্লো আহলেহা কানু আলা মাযহাবে আহলিল হাদীস। ওয়া কাযালিকা সগুরুল আফরিকিয়াতে ওয়া ইনুদুলুস ওয়া কুল্লো সগুরে ওয়ারায়ে বাহরিল মাগরিবে কানু আলা মাযহাবে আহলিলহাদীস। ওয়া কাযালিকা সগুরুল ঈমানি আলা সাহেলিযযানজে কানু আলা মাযহাবে আহলিল হাদীস’’।অর্থ:- রুম সীমান্ত আলজিরিয়া, সিরিয়া, আজারবাইজান, বাবুল আবওয়াব প্রভৃতি স্থানের সকল মুসলমান অধিবাসী ‘আহলে হাদীস’ ছিলেন। অনুরূপভাবে আফ্রিকার সীমান্ত, স্পেন এবং পশ্চিম সাগরের পশ্চাৎবর্ত্তী সকল সীমান্তের মুসলমানরা ‘আহলে হাদীস’ ছিলেন। ঐরূপ আবিসিনায়ার উপকূলবর্তী ওমানের সমুদয় সীমান্তবাসী ‘আহলে হাদীস’ ছিলেন।
বলা বাহুল্য, ঐ সকল স্থান যাদের দ্বারা বিজিত হয়েছিল তারা সকলেই সাহাবা ও তাবেয়ী ছিলেন। আর সাহাবা ও তাবেয়ীগণ আহলে হাদীস ছিলেন বলেই যে ঐ সকল বিজিত স্থানের মুসলমানরা আহলে হাদীসরূপে কীর্তি হতে পেরেছিলেন, তা দিবালোকের সতোই সত্য।
এ পর্যন্ত যা আলোচনা করা হলো তাতে পরিস্কার হয়ে গেল যে, সাহাবায়ে কেরাম ও তাবেয়ীনে ইমাম আহলে হাদীস ছিলেন। তাদরে মাযহাব একই মাযহাব ছিল। আর যে কোন দেশে এবং যে কোন যুগে তাদেরকে যারা অনুসরণ করবেন, তারাই আহলে হাদীসরূপে কীর্তি হবেন। এই আহলে হাদীসদের সম্পর্কেই একটি হাদীস সাখাবীর আল কওলুলবাদীর ১৮৯ পৃষ্ঠায় লিখিত আছে- আনাস রাজিআল্লাহুআনহু বলেন, আল্লাহর রসূর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যথন কিয়ামতের দিন আহলে হাদীসগণ কালির দোয়াতসমূহ সহ আসবেন তখন আল্লাহ বলবেন, তোমরা আহলে হাদীস জান্নাতে প্রবেশ করো।
এখন কথা হচ্ছে এই যে, যারা মহামতি ইমামগণের আদেশ শিরোধার্য করে সাহাবায়ে কেরামের পথে, তাবেয়ীনে ইমামের পথে, কুরআন ও সহীহ সুন্নাহ মোতাবেক চলার চেষ্টা করে আহলে হাদীসরূপে পরিচয় দেন, আর অখন্ড মুসলিম জামাতকে খন্ড খন্ড করে একটা খন্ডের মধ্যে সীমাবদ্ধ থেকে কেউ যদি তাদেরকে ‘লা মাযহাবী’ বলে উপহাস করে তাহলে তার চেয়ে আর চরম বেআদবী কি হতে পারে।
আমরা এ ব্যাপারে আহলে হাদীস ভাই- ভগ্নিদের বলবো, আপনারা প্রত্যেক ইমাম, খতিব, আলেম, ফকিহ, মুহাদ্দেস মুফতীকে সন্মান দিয়ে থাকেন। আপনাদের মধ্যে সংকীর্ণতা নেই। কাহারো প্রতি কোন কটাক্ষ নেই, কটুক্তি নেই। তবে দোষের মধ্যে একটি দোষ আপনাদের আছে। সেটি হলো কারো ব্যক্তিগত রায় বা কিয়াসকে আপনারা আল্লাহ ও আল্লাহর নবীর সহীহ হাদীসের উপর স্থান দেন না। এতে যদি আপনাদেরকে কেউ ‘লা মাযহাব ‘ বলে বলুক, তাতে কিছুই যায় আসে না। জেনে রাখবেন, যার যুযু তার গায়েই গুরে গিয়ে লাগবে।
আলেম সাহেব তাঁর রেসালার ২৭ পৃষ্ঠায় রংপুরের আবু সায়েক আবদুর রহমান সাহেবকে’ কচ্ছপখোরী বলে ব্যঙ্গ করেছেন। এ ব্যাপারে আমরা জনাবকে বলবো, কচ্ছপ আমরা খাই না, আপনিও খান না। লাখ লাখ কোটি কোটি মুসলমান খায় না। কিন্তু চার ইমামের মধ্যে কোন ইমাম যদি কচ্ছপ হালাল হওয়ার সমর্থনে রায় পেশ করে থাকেন, আর কোন আলেম যদি সেই রায়কে সমর্থন করেন, তাহলে তাঁকে বিরূপ করার কি আছে? তাকে বিদ্রুপ করা মানে যে সেই মহামতি ইমামকে বিদ্রুপ করা আর সেই মাযহাব পন্থীদেরকে বিদ্রুপ করা-এ জ্ঞানটুকু কি আপনার একেবারে হারিয়ে গেছে? আপনি যখন চার মাযহাবে বিশ্বাস তখন চার মাযহাবের মধ্যে যে কোন মাযহাবের যে কোন দলিলকে আপনি মানুন আর না মানুন, উপহাস কররতে পারেন না। উপহাসই যদি করলেন তাহলে চার মাযহাবকে আর মানা হলো কই? আপনার অতি প্রিয় চার ফের্কার, ফের্কা শাস্ত্রগুলো ঘেটেখুটে দেখবেন, নিশ্চয়ই কচ্ছপ হালালের সমর্থনে রায় পাবেন।
আল্লাহ ফজলে ১৫০ হিজরী পর্যন্ত মুসলমানরা মাযহাবী ফেরকায় বিভক্ত হয়নি। পরবর্তী যুগে অখন্ড মুসলিম জামাতের মাঝে ফাটল ধরানো হয়েছে। এই ফাটল ধরিয়ে দিয়ে কেউ যদি আহ্লাদে আটখানা হয়ে বলে, আমরা মস্ত বড় বাহাদুরি করছি তাহলে তাদেরকে আর কি বলা যাবে?
আলেম সাহেব যদি মহামতি ইমামগণের দিকে লক্ষ্য করেন তাহলে পরিস্কারভাবে দেখতে পাবেন তারা প্রত্যেকেই আহলে হাদীস ছিলেন।ইমাম আবু হানিয়া রহমাহুল্লাহ বলেছেন, ইযা সাহহাল হাদীস ফাহুয়া মাযাহাবী’’- যখন সহীহ হাদীস পাবে সেটাকে আমার মাযহাব বলে জানবে। (রদ্দুল মহতার-১, পৃষ্ঠা:-৪৬২।
ইমাম সাহেব আরও বলেছেন, ইযা রাআয়তুম কালামানা ইয়োখালেকু যাহেরাল কিতাবে ওয়াস সুন্নাতে, ফামালু বিল কিতাবে ওয়াস সুন্নাতে ওয়াযরেবু বেকালামিনাল হায়েত’’- তোমরা যদি আমার কোন কথা কুরআন ও সুন্নাতের বিপরীত দেখতে পাও তাহলে আমার কথাকে দেওয়ালের গায়ে পটকা মেরে ফেলে দিয়ে, কুরআন ও সুন্নাহ মোতাবেক আমল করবে। (মীযানে কুবরা-১, পৃ: ৫৭)।
ইমাম আজম আরও বলেছেন, উতরুকু কাওলী বেখাবরে রাসুলিল্লাহে সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম’’ আল্লাহ রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কথার মোকাবিলায় তোমরা আমার কথাকে ছেড়ে দিও। (ইকদুলজীদ, পৃ:৫৪)।
অনুরূপভাবে ইমাম মালেক রহমাহুল্লাহ এ কথাই বলেছেন, ‘‘ইন্নামা আনা রাশারুন, উসীবো ওয়া উখতি, ফা আরেযু কাওলি আ’লাল কিতাবে ওয়াস্ সুন্নাতে লা তোকাল্লেদূনী’’- আমি একজন মানুষ মাত্র। কোন বিষয়ে আমার সিদ্ধান্ত ঠিকও হতে পারে আবার ভুলও হতে পারে। অতএব তোমরা আমার কথা কুরআন ও সুন্নাহর দ্বারা যাচাই করে দেখবে। খবরদার তোমরা আমার অন্ধ অনুসরণ করো না। (ফতোয়া ইবনে তায়মিয়াহ-২, পৃ: ৩৮৪)।
ইমাম শাফেয়ী রহমাহুল্লাহ ঠিক অনুরূপ কথাই বলেছেন, তিনি বলেন, ‘‘লা হুজ্জাতা ফি কাওলে আহা’দিন দুনা রাসূলিল্লাহে সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, লা-ফী কিয়াসিন ওলা ফী শায়ইন’’-আল্লাহ রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কথা ব্যতীত কাহারো কথাই দলিল নয়। কিয়াস হোক কিংবা অন্য কোন ব্যাপারে হোক।(হুজ্জাতুল নাহিণ বালেগা,পৃ:১২৬)।
ইমাম আহমদ বিন হাম্বল রহমাহুল্লাহ বলেছেন, ‘‘লা তুকাল্লিদুনী ফী কুল্লে মা আকুলো’’- আমার প্রতিটি কথার তোমরা অন্ধ অনুসরণ করো না। (মীজান)
মহামতি ইমাম সাহেবগণ এ ধরণের বহু কথা বলে গেছেন। এখন যদি মুসলমানদের একটি দল ইমাম সাহেবদের আদেশকে শিরোধার্য করে কুরআন ও সুন্নাহকে প্রাধ্যান্য দেন; আর আলেম সাহেব যদি তাদেরকে ‘লা মাযহাবী’ বলে বিদ্রুপ করেন তাহলে তার কথার কি কেউ সমর্থন দিবে? তিনি জেনে রাখুন, আহলে হাদীসরা মহামতি ইমামগনকে গভীরভাবে শ্রদ্ধা করেন। চার মাযহাবকে তারা কখনো ঘৃণা করেন না। তবে যে মাযহাবের যে যে দলিল কুরআন ও সহীহ সুন্নাহর সাথে অধিকতর সুসমঞ্জস্য সেই দলিলকেই তার গুরুত্ব দিয়ে থাকেন। হানাফী ফেকার কোন দলিলের চেয়ে শাফেয়ী মাযহাবের কোন দলিল যদি কুরআন ও সহীহ সুন্নাহর সাথে অধিকতর সুসমঞ্জস্য হয় তাহলে আহলে হাদীসরা সেই শাফেয়ী মাযহাবের দলিলকেই মেনে চলেন। আবার শাফেয়ী মাযহাবের কোন দলিলের চেযে হানাফী মাযহাবের কোন দলিল যদি কুরআন ও সহীহ সুন্নাহর সাথে অধিকতর সুসমঞ্জস্য হয়। তাহলে আহলে হাদীসরা হানাফী মাযহাবের সেই দলিল মেনে চলেন। এভাবে চার মাযহাব সম্পর্কেই তারা এই নীতি অবলম্বন করে চলেন। বলতে গেলে আহলে হাদীসরা চার মাযহাবেই আছেন। আহলে হাদীসরা কুরআন ও সহীহ হাদীসের উপরই আছেন। আল্লাহ ফজলে আহলে হাদীসরা সঠিক পথেই আছেন।
এবার আলেম সাহেবকে যদি কেউ জিজ্ঞেসা করেন, আচ্ছা বলুনতো, চার ইমামের আগে যেসব মুসলমান ছিলেন, তারা কোন মাযহাবে ছিলেন? চার খলিফার মাযহাব কি ছিল? সাহাবায়ে কেরাম ও তাবেয়ীগণের মাযহাব কি ছিল? তখন তো চার ইমামের জন্ম হয়নি তার চার মাযহাবও কায়েম হয়নি। তাহলে আলেম সাহেবের কথা মত তারা কি ‘লা মাযহাবী’’ ছিলেন? তাই বলছিলাম, আলেম সাহেব আহলে হাদীসদেরকে যে ‘লা মাযহাবী’ বলে কটাক্ষ করেছেন সে কটাক্ষ কোথায় গিয়ে লাগছে একথা কি জনাবের মগজে ঢুকছে? তিনি যে সব সময় সৈয়দ মহিউদ্দীন আবদুল কাদের জিলানীর রহমাহুল্লাহ একটা কথা স্মরণ রাখেন। তিনি বলেছেন, বেদআতী লোকের আলামত হচ্ছে আহলে হাদীসগণকে মন্দ বলা। তিনি আরও বলেছেন, এই হক জামাতের একটি মাত্র নাম আছে। তাছাড়া অন্য কোন নাম নেই এবং তা হচ্ছে ‘আহলে হাদীস’’ (গুনিয়াতুত তালেবীন, ১ম খন্ড, পৃ: ৯০,মিসরী ছাপা)।
সাহাবায়ে কেরাম ও তাবেয়ীগণ যে আহলে হাদীস ছিলেন এ কথা যদি তিনি জানতে চান তাহলে তাযকিরাতুল হুফফাযের ১ম খন্ড ২৯ পৃষ্ঠা খুলে দেখবেন আবু হুরায়রা রাদিআল্লাহআনহু নিজেকে আহলে হাদীস বলতেন।
তারিখে বাগদাদের ৫ম খন্ড ২২৮ পৃষ্ঠা খুলে দেখুন, আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাসকে রাদিআল্লাহআনহু আহলে হাদীস বলা হতো।
খতিব, বাগদাদীর কিতাবুশ শরফের ২১ পৃষ্ঠা খুলে দেখুন, আবু সাঈদ খুদরী তাবেয়ীগণকে লক্ষ্য করে বলতেন, তোমরাই আমাদের স্থলাভিষিক্ত এবং আমাদের পর তোমরাই আহলে হাদীস।
তাযকিরাতুল হুফফাযের (১৪) ৭২ পৃষ্ঠায় দেখবেন, ইমাম শাবী পাঁচশ সাহাবার সাক্ষাত লাভ করেছিলেন। এবং ৪৮ জন সাহাবার নিকট হাদীস পড়েছিলেন। তিনি সাহাবাদের সকলকেই আহলে হাদীস বলতেন।
আবদুল কাহের বাগদাদীর উসুলুদদীনের ১ম খন্ড, ৩১৭ পৃষ্ঠা খুলে দেখুন লেখা আছে, ‘‘সগুরুর রুমে ওয়াল জাযিরাতে ওয়াশ শামে ওয়া আজার বায়জান, ওয়া বাবুল আবওয়াবে কুল্লো আহলেহা কানু আলা মাযহাবে আহলিল হাদীস। ওয়া কাযালিকা সগুরুল আফরিকিয়াতে ওয়া ইনুদুলুস ওয়া কুল্লো সগুরে ওয়ারায়ে বাহরিল মাগরিবে কানু আলা মাযহাবে আহলিলহাদীস। ওয়া কাযালিকা সগুরুল ঈমানি আলা সাহেলিযযানজে কানু আলা মাযহাবে আহলিল হাদীস’’।অর্থ:- রুম সীমান্ত আলজিরিয়া, সিরিয়া, আজারবাইজান, বাবুল আবওয়াব প্রভৃতি স্থানের সকল মুসলমান অধিবাসী ‘আহলে হাদীস’ ছিলেন। অনুরূপভাবে আফ্রিকার সীমান্ত, স্পেন এবং পশ্চিম সাগরের পশ্চাৎবর্ত্তী সকল সীমান্তের মুসলমানরা ‘আহলে হাদীস’ ছিলেন। ঐরূপ আবিসিনায়ার উপকূলবর্তী ওমানের সমুদয় সীমান্তবাসী ‘আহলে হাদীস’ ছিলেন।
বলা বাহুল্য, ঐ সকল স্থান যাদের দ্বারা বিজিত হয়েছিল তারা সকলেই সাহাবা ও তাবেয়ী ছিলেন। আর সাহাবা ও তাবেয়ীগণ আহলে হাদীস ছিলেন বলেই যে ঐ সকল বিজিত স্থানের মুসলমানরা আহলে হাদীসরূপে কীর্তি হতে পেরেছিলেন, তা দিবালোকের সতোই সত্য।
এ পর্যন্ত যা আলোচনা করা হলো তাতে পরিস্কার হয়ে গেল যে, সাহাবায়ে কেরাম ও তাবেয়ীনে ইমাম আহলে হাদীস ছিলেন। তাদরে মাযহাব একই মাযহাব ছিল। আর যে কোন দেশে এবং যে কোন যুগে তাদেরকে যারা অনুসরণ করবেন, তারাই আহলে হাদীসরূপে কীর্তি হবেন। এই আহলে হাদীসদের সম্পর্কেই একটি হাদীস সাখাবীর আল কওলুলবাদীর ১৮৯ পৃষ্ঠায় লিখিত আছে- আনাস রাজিআল্লাহুআনহু বলেন, আল্লাহর রসূর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যথন কিয়ামতের দিন আহলে হাদীসগণ কালির দোয়াতসমূহ সহ আসবেন তখন আল্লাহ বলবেন, তোমরা আহলে হাদীস জান্নাতে প্রবেশ করো।
এখন কথা হচ্ছে এই যে, যারা মহামতি ইমামগণের আদেশ শিরোধার্য করে সাহাবায়ে কেরামের পথে, তাবেয়ীনে ইমামের পথে, কুরআন ও সহীহ সুন্নাহ মোতাবেক চলার চেষ্টা করে আহলে হাদীসরূপে পরিচয় দেন, আর অখন্ড মুসলিম জামাতকে খন্ড খন্ড করে একটা খন্ডের মধ্যে সীমাবদ্ধ থেকে কেউ যদি তাদেরকে ‘লা মাযহাবী’ বলে উপহাস করে তাহলে তার চেয়ে আর চরম বেআদবী কি হতে পারে।
আমরা এ ব্যাপারে আহলে হাদীস ভাই- ভগ্নিদের বলবো, আপনারা প্রত্যেক ইমাম, খতিব, আলেম, ফকিহ, মুহাদ্দেস মুফতীকে সন্মান দিয়ে থাকেন। আপনাদের মধ্যে সংকীর্ণতা নেই। কাহারো প্রতি কোন কটাক্ষ নেই, কটুক্তি নেই। তবে দোষের মধ্যে একটি দোষ আপনাদের আছে। সেটি হলো কারো ব্যক্তিগত রায় বা কিয়াসকে আপনারা আল্লাহ ও আল্লাহর নবীর সহীহ হাদীসের উপর স্থান দেন না। এতে যদি আপনাদেরকে কেউ ‘লা মাযহাব ‘ বলে বলুক, তাতে কিছুই যায় আসে না। জেনে রাখবেন, যার যুযু তার গায়েই গুরে গিয়ে লাগবে।
আলেম সাহেব তাঁর রেসালার ২৭ পৃষ্ঠায় রংপুরের আবু সায়েক আবদুর রহমান সাহেবকে’ কচ্ছপখোরী বলে ব্যঙ্গ করেছেন। এ ব্যাপারে আমরা জনাবকে বলবো, কচ্ছপ আমরা খাই না, আপনিও খান না। লাখ লাখ কোটি কোটি মুসলমান খায় না। কিন্তু চার ইমামের মধ্যে কোন ইমাম যদি কচ্ছপ হালাল হওয়ার সমর্থনে রায় পেশ করে থাকেন, আর কোন আলেম যদি সেই রায়কে সমর্থন করেন, তাহলে তাঁকে বিরূপ করার কি আছে? তাকে বিদ্রুপ করা মানে যে সেই মহামতি ইমামকে বিদ্রুপ করা আর সেই মাযহাব পন্থীদেরকে বিদ্রুপ করা-এ জ্ঞানটুকু কি আপনার একেবারে হারিয়ে গেছে? আপনি যখন চার মাযহাবে বিশ্বাস তখন চার মাযহাবের মধ্যে যে কোন মাযহাবের যে কোন দলিলকে আপনি মানুন আর না মানুন, উপহাস কররতে পারেন না। উপহাসই যদি করলেন তাহলে চার মাযহাবকে আর মানা হলো কই? আপনার অতি প্রিয় চার ফের্কার, ফের্কা শাস্ত্রগুলো ঘেটেখুটে দেখবেন, নিশ্চয়ই কচ্ছপ হালালের সমর্থনে রায় পাবেন।
আমি মাযহাবী ভাইদের বিরুধ্যে নই!!!
আমার উপরের সব লেখা শুধুমাত্র তাদের জন্য,
যারা আহলে হাদিসকে গালি দেয় বিভিন্ন কটুক্তি স্বরে
তাদের জন্য!!!
আমি আপনাদের বোঝাতে চাই উদার মোনোভাব পোষন করুন!!
কাউকে গালি দেওয়া ফাসেকি,আর মুসলিমকে হত্যা করা কুফরি!!
আর মনে রাখবেন আহলে হাদিসদের সকল আমল কোন না কোন মাযহাবের আমলের সাথে মিলে যায়।।
আর কিছু লিখবো না আল্লাহর যাদের জ্ঞান দিয়েছেন,
তারা সত্য ঠিকই অনুধাবন করবে এবং মাযহাবীরা আহলে হাদিস ভাইদের দ্বীনি ভাই হিসেবে
গ্রহন করবে ইনশাআল্লাহ..
আমার উপরের সব লেখা শুধুমাত্র তাদের জন্য,
যারা আহলে হাদিসকে গালি দেয় বিভিন্ন কটুক্তি স্বরে
তাদের জন্য!!!
আমি আপনাদের বোঝাতে চাই উদার মোনোভাব পোষন করুন!!
কাউকে গালি দেওয়া ফাসেকি,আর মুসলিমকে হত্যা করা কুফরি!!
আর মনে রাখবেন আহলে হাদিসদের সকল আমল কোন না কোন মাযহাবের আমলের সাথে মিলে যায়।।
আর কিছু লিখবো না আল্লাহর যাদের জ্ঞান দিয়েছেন,
তারা সত্য ঠিকই অনুধাবন করবে এবং মাযহাবীরা আহলে হাদিস ভাইদের দ্বীনি ভাই হিসেবে
গ্রহন করবে ইনশাআল্লাহ..
No comments:
Post a Comment