Wednesday, 11 November 2015

কোরআন হাদীস ও বিভিন্ন ধর্মের আলোকে রুহ এবং অন্তর কি?-হিন্দু খ্রিষ্টান ইহুদী বৌদ্ধ প্রায় একুই ধারনার অনুসরণ করে + সুফী

কোরআন হাদীস ও বিভিন্ন ধর্মের আলোকে রুহ এবং অন্তর কি?
কিছু অংশঃ ওমর ফারুক হেলাল ও সাজ্জাদ ইবনে আব্দুল লতিফ
>>>>সংযোজন ও সম্পদনা মোঃ আমিরুল ইসলাম।
>>>.রুহ হল আরবি শব্দ।>>> বাংলায় অনেকে আত্মা বলে।###‪#‎প্রকৃত‬ কথা আত্মা একটি ইন্দো ইউরোপিয়ান শব্দ। নিস্পন্ন হয়েছে জার্মান ভাষার "Atmen" ধাতু থেকে যার অর্থ শ্বাস নেওয়া। ঈশ্বর চিন্তার একপর্যায়ে দেহের ভিতরে আত্মা (রুহ) নামের ভিন্ন এক সত্তার কল্পনা করা হয়। ক্রমে ক্রমে ব্যাখাটি এমনভাবে দাড়ায় যেন দেহ নশ্বর, আত্মা অবিনশ্বর। এই মতবাদের প্রবত্বকরা প্রতিষ্ঠা করতে চান যে, দেহ গৌণ - আত্মা মুখ্য। এ তত্বের পিছনে ধর্মাধিকার সম্প্রদয়েরও কারসাজি ছিল কারন আত্মার ধারনাকে প্রতিষ্ঠিত করা সহজ হয়েছে এবং সাধারন মানুষের বিশ্বাসে সৃষ্টি করা গেছে আরও বেশি জটিলতা। অনেক ধর্মমতেই বলা হয়, আত্মারই বিচার হবে, দায় নিতে হবে সব পাপ- পুণ্য এর। তাই আত্মার মুক্তি চাই কিন্তু কিভাবে? এর বিহিতের মীমাংসাও করেছেন ধর্মাধিকারীরা, তারা বাতলে দিয়েছেন আত্মার মুক্তির স্বয়ংসিদ্ধ, একে অন্যের থেকে আলাদা আলাদা বিচিত্র মুক্তির পথ।
####‪#‎সাংখ্য‬ দর্শন মতে, আত্মা চৈতন্যসরূপ এবং বহু। যত জীবন তত আত্মা। অজ্ঞতাবশত আত্মা আবদ্ধ হয় প্রকৃতির মায়াজালে, যোগসাধনার মাধ্যমে তার মুক্তি ঘটে। মুক্ত আত্মা সুখ দুঃখের অনেক উদ্ধে বিশুদ্ধ চৈতন্যসরূপ। সাংখ্য দর্শন মতে এমনও মত আছে যে, আত্মার উদ্ভব জন্ম, চেতন বায়ু থেকে। অদ্বৈত বেদান্ত মতে আত্মা অভিন্ন, অব্যয় আনন্দময়, সততই শুদ্ধ।
#####‪#‎সনাতন‬ শাস্ত্রমতে, আত্মার অনুপস্থিতিই মৃত্যু। জীবন বা আত্মার চারটি উপাধি ---- মন (মন সব রকমের অনুভুতিসহ), পঞ্চপ্রাণ (প্রান, অপ্রান,উদান, ধ্যান, সমান ); সূক্ষ্ম শরীর (প্রাণময় কোষ) এবং কর্ম। মৃত্যুর পরে এই চার উপাধি আত্মাকে অনুসরন করে। আত্মা মুক্তিলাভের পর এগুলি নিঃশেষ হয়ে যায়। আত্মার দেহ থেকে বের করে নিয়ে যায় উদান বায়ু। সনাতন ধর্ম জীবের পুনর্জন্মে বিশ্বাসী। আত্মার পরিণাম স্থির হয় জীবদ্দশায় তার কৃতকর্ম অনুসারে। ধর্মবিধান অনুসারে জীবনযাপনকারীর আত্মা ধূম, রাত্রি, কৃষ্ণপক্ষ, দক্ষিণায়ন, পিতৃলোক, আকাশ পার হয়ে উপস্থিত হয় চন্দ্রে। এখানে কৃতকর্মের কিছুটা ভোগ করে ফিরে আসে পুনর্জন্মের উদ্দেশ্য। অর্থাৎ আকাশ, বায়ু, ধূম, মেঘ, বর্ষ, ব্রীহি, যব, ওষধি, বৃক্ষ এ এবং তিল পার হয়ে উপস্থিত হয় পুরুষ বীর্যে এবং পরে সেখান থেকে যায় স্ত্রী গর্ভে। আত্মা এর এই ধারনার সাথে যুক্ত হয়েছে সনাতন ধর্মের বর্ণ বৈষম্য প্রথাও, ধারনা করা হয় জীবাত্না যখন চন্দ্রলোকে যায় এবং সেখান থেকে ফিরে আসতে থাকে ক্রমশ কমতে থাকে এর পদার্থগুন। এই যাওয়া আসাকে এককথায় সনাতন ধর্মমতে বলা হয় 'পিতৃযান'। আত্মা জীবজগতে ফিরে আসে উদ্ভিদ হয়ে। এরপর কর্ম অনুসারে জন্ম নেয় ব্রাহ্মণ, ক্ষত্রিয়, শূদ্র কিংবা বৈশ্যর ঘরে। অন্য একটি মতানুসারে, ব্রহ্ম ও জীবাত্মা আলাদা। ব্রহ্মের উপাসকদের আত্মা বিদ্যুৎ, বরুনালোক, ইন্দ্রলোক, প্রজাপতিলোক পার হয়ে পরব্রহ্মে বিলীন হয়। যারা কর্মের মাধ্যমে মুক্তি ঘটায় তাদের আর জন্মগ্রহন করা হয়না। অবিশ্বাসী, সুখভোগে মত্ত এবং বেদবিরোধীদের ব্যাপারেও বলা হয়েছে, এসব মানুষের আত্মা দক্ষিণায়ন পথে পিতৃলোকে যায়। ভোগশেষে পুনর্জন্ম হয়, শাস্ত্রবিধি ঠিকভাবে না মানলে আত্মা কীট প্রতঙ্গের হয়ে জন্ম নেয় বলে জানা যায় কিন্তু কীট প্রত্যঙ্গের আত্মার মৃত্যুর পরে কি হয় সেই ব্যাপারে পাওয়া যায়না কোন সুস্পষ্ট এবং সুনির্দিষ্ট ধারনা।
####‪#‎জৈনরা‬ জীবাত্নায় বিশ্বাসী। এ ধর্মের বিশ্বাসীরা মনে করে, আত্মার সরূপ না জানাই জীবের দুঃখ এর মূল কারন।
###‪#‎চার্বাক‬ এবং বৌদ্ধ দর্শনে আত্মা বলতে কিছুই নেই। জ্ঞানই আত্মা।
##### আধুনিক বিজ্ঞানও স্বীকার করেনা আত্মা বলে অধঃভৌতিক কিছুর অস্তিত্ব। যথারীতি বিজ্ঞানের নিত্যনতুন আবিষ্কারের সাহায্যও সংজ্ঞায়িত করা যায়নি বিশ্বাসের এই অন্যতম মূল স্তম্ভকেও। যা মাত্র দাবী করা হয়েছে তা সকলের কাছে প্রমাণিত করতে যেয়ে হয়েছে হাস্যকর এবং নির্ভেজাল বিনোদনের আঁধার।
( 'বৌদ্ধ ধর্ম' ব্যাবহার না করে, 'বৌদ্ধ দর্শন' বলার কারনে অনেকের অনুভূতিতে আঘাত লাগতে পারে। তাদের সকলের কাছে বিশেষভাবে ক্ষমাপ্রার্থী। কিন্তু গৌতম বৌদ্ধ নির্বাণের পূর্বে যা দিয়ে গিয়েছেন সেটা আসলেই দর্শন, আপনারা অনেকে সেটাতে ঠিক কোথায় ধর্ম খুজে পান আমি আসলেই বুঝি না, তাই দর্শন শব্দখানাই ব্যাবহার করলাম। )
####‪#‎সেমেটিক‬ ধর্মমতের সবগুলিই (ইহুদি, খৃস্ট এবং ইসলাম ধর্ম) যাদের উদ্ভবস্থল আরব অঞ্চল বিশ্বাস করে, আত্মা বা রূহ এর অবিনশ্বরতা এর কথা বলে।এতে মানবের আত্মার একটা বিধান হয় বটে তবে শেষ বিচারের দিন শিঙ্গারে ফুঁ দেবার সাথে সাথে এবং বাকী সকল জীবিত আত্মা ধূলিতে মিটে যাবার পর তাদের আত্মা এর কি বিধান হবে তাহা পরিষ্কার ধারনা পাওয়া যায়না এই বিশ্বাস মতে। কিন্তু যেহেতু ধারনা পাওয়া যায় স্বর্গলোকে এই পৃথিবীর অনেক কিছুই বর্তমান রুপে থাকিবে কাজেই ধারনা করে নেওয়া যায় মানব আত্মা ব্যাতিত সকল জীবসমূহের পরলৌকিক আত্মাও মানুষের উপরকারেই ব্যাবহার করা হবে।
****সর্বোপরি এটা আল্লাহ প্রদত্ত এক বিশেষ কুদরত।###‪#‎স্রষ্টা‬ একজনই তিনি আল্লাহ্।দুনিয়াতে যা আছে সবই তার সৃষ্টি।সব কিছুকে নিখুত পরিকল্পনায় তিনি সৃষ্টি করেছেন এবং পরিচালনা করতেছেন। সুবহান আল্লাহ।
সম্পুর্ন শূন্যতা বা অস্তিত্বহীন থেকে শক্তির মাধ্যমে তিনি যেভাবে সৃষ্টিকে অস্তিত্বে আনেন,তেমনি করে অতিরিক্ত আরেকটি শক্তির মাধ্যমে নিষ্প্রাণ পদার্থে তিনি প্রাণের উন্মেষ ঘটান।সে অতিরিক্ত শক্তিই হল রুহ বা আত্মা।আসুন দেখে নেই রুহ সম্পর্কে পবিত্র কোরআনে কি বলা হয়েছে
১. আল্লাহ বলেন,
وَيَسْأَلُونَكَ عَنِ الرُّوحِ قُلِ الرُّوحُ مِنْ أَمْرِ رَبِّي وَمَا أُوتِيتُم مِّنَ الْعِلْمِ إِلَّا قَلِيلًا ﴿الإسراء: ٨٥﴾
তারা আপনাকে রূহ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করে। বলে দিনঃ রূহ হল আমার পালনকর্তার আদেশ । এ বিষয়ে তোমাদেরকে সামান্য জ্ঞানই দান করা হয়েছে। (১৭: ৮৫)
মারেফুল কোরআন,বলা হয়েছে, নবী কারিম (সা.) সবসময়ই জনগণের বিভিন্ন প্রশ্নের সম্মুখীন হতেন এবং তিনি প্রশ্নের যথার্থ উত্তর দিয়ে মানুষের জ্ঞানের চাহিদা মেটাতেন। মুমিনগণও দ্বীনকে সঠিকভাবে জানার জন্যে নবীজীর কাছে বিভিন্ন বিষয়ে প্রশ্ন রাখতেন। কিন্তু বিরোধীরা অর্থাৎ কাফির মুশরিকরা জনগণের মাঝে দ্বিধা-সন্দেহ জাগিয়ে তোলার জন্যে এবং তাদের মাঝে রাসূলের অবস্থান দুর্বল করার জন্যে বিভিন্ন ধরনের প্রশ্ন উত্থাপন করত। এই আয়াতে তেমনি একটি প্রশ্নের প্রতি ইঙ্গিত করে বলা হয়েছেঃ রূহ সম্পর্কে নবীজীকে প্রশ্ন করা হতো। পবিত্র কুরআনে অন্তত বিশ বার ‘রূহ’ শব্দটি তিনটি প্রসঙ্গে এসেছে।
প্রথমত ‘রূহ’ হলো সেই অলৌকিক বস্তু যা মানুষের ভেতর ফুঁ দিয়ে প্রাণের সঞ্চার করা হয়।
দ্বিতীয়ত ‘রূহ’ শব্দটি ওহীর দায়িত্বে নিয়োজিত ফেরেশতা হযরত জিব্রাইল (আ.) এর প্রসঙ্গে এসেছে।
তৃতীয়ত ‘রূহ’ শব্দটি এসেছে স্বয়ং কুরআন এবং আল্লাহর ওহী সম্পর্কে, যেই ওহী রাসূলে খোদার ওপর অবতীর্ণ হয়েছিল। রূহ অর্থ হলো প্রাণ। আর যে তিনটি প্রসঙ্গে এই ‘রূহ’ শব্দটি এসেছে প্রতিটি প্রসঙ্গই মানুষের জীবন এবং মানব সমাজের প্রাণের উৎস।
প্রশ্নকারীরা রাসূলে (ছাঃ)কেমানুষের ‘রূহ’ সম্পর্কে প্রশ্ন করত যে ‘রুহ’ জিনিসটা আসলে কী বা কেমন? কিংবা প্রশ্ন করত যেই ফেরেশতা কুরআন অবতীর্ণ করার দায়িত্বে নিয়োজিত ছিলেন, সেই ফেরেশতা কীভাবে নবীজীর ওপর ওহী নাযিল করতেন?
আল্লাহ রাব্বুল আলামিন নবীজীকে বললেনঃ প্রশ্নকারীদের ঐসব প্রশ্নের জবাবে বলুন! ‘রূহ’ বস্তুগত কিংবা অনুভবগ্রাহ্য কোনো জিনিস নয় যে তোমরা তা উপলব্ধি করতে পারবে, বরং রূপ সম্পূর্ণ অবস্তুগত একটি জিনিস যা আল্লাহ পাক সৃষ্টি করেছেন এবং রূহ বিষয় কী বা কেমন তা তোমাদের উপলব্ধি ক্ষমতার বাইরে। এই বিশ্বভূবনের সত্যাসত্য সম্পর্কে তোমাদের জ্ঞান খুবই সীমিত এবং উপলব্ধি ক্ষমতাও যৎসামান্য। তোমরা ভেব না যে তোমরা সবকিছুই জানো কিংবা জানতে সক্ষম।
২. يَوْمَ يَقُومُ الرُّوحُ وَالْمَلَائِكَةُ صَفًّا لَّا يَتَكَلَّمُونَ إِلَّا مَنْ أَذِنَ لَهُ الرَّحْمَٰنُ وَقَالَ صَوَابًا ﴿النبإ: ٣٨﴾
যেদিন রূহ ও ফেরেশতাগণ সারিবদ্ধভাবে দাঁড়াবে। দয়াময় আল্লাহ যাকে অনুমতি দিবেন, সে ব্যতিত কেউ কথা বলতে পারবে না এবং সে সত্যকথা বলবে। (৭৮: ৩৮)
#####৩) “আল্লাহ্ এবং শেষ বিচারের দিনে যারা বিশ্বাস করে, এমন কোন লোককে তুমি দেখবে না, তাদেরকে ভালোবাসতে, যারা আল্লাহ্ এবং তাঁর রসুলের বিরুদ্ধাচারণ করে; যদিও তারা তাদের পিতা, কিংবা পুত্র, কিংবা আত্মীয় স্বজন হয় (১)। এদের হৃদয়ে আল্লাহ্ ঈমানকে সুদৃঢ় করেছেন (২), এবং তাঁর পক্ষ থেকে রূহু দ্বারা তাদেরকে শক্তিশালী করেছেন (৩)। এবং তিনি তাদেরকে বেহেশতে প্রবেশ করাবেন, পাদদেশে যার নদী প্রবাহিত, সেখানে তারা [ চিরদিন ] থাকবে। আল্লাহ্ তাদের প্রতি সন্তুষ্ট হবেন এবং তারাও আল্লাহ্র প্রতি সন্তুষ্ট হবে (৪)। এরা হলো আল্লাহ্র দল (৫)। সত্যই, এরাই আল্লাহ্র সেই দল যারা প্রশান্তি লাভ করবেন। ”—(সূরা মুজাদালা, ২২)
এই সম্পর্কে তফসীর হল,তফসীর মারেফুল কোরআন
(১) প্রকৃত মোমেন বান্দাদের গুণাবলীকে এখানে বিবৃত করা হয়েছে। যদি কেউ প্রকৃত পক্ষে বিশ্বাস করে যে আল্লাহ্ আমাদের স্রষ্টা, প্রতিপালক,সকল কল্যাণের মালিক, পরকালে তাঁর নিকটেই ইহকালের জবাবদিহি করতে হবে এবং পরলোকে আমাদের সকল কাজের প্রকৃত মূল্যায়ন করা হবে সত্য ও ন্যায়ের মানদন্ডে, তবে সেক্ষেত্রে সঙ্গে সঙ্গে আমাদের বিশ্বাসে, ধর্মমতে, আচরণে, সব কিছুতে আমূল পরিবর্তন ঘটে যেতে বাধ্য। এই বিশ্বাসে বিশ্বাসী লোকেরা জীবনের কোনও অবস্থাতেই পাপ, অন্যায় ও অসত্য বা আল্লাহ্র বিরুদ্ধে বিদ্রোহীদের সাথে একাত্মতা অনুভব করবে না। হতে পারে তারা তার নিকট আত্মীয় সেক্ষেত্রেও তারা তাদের সাথে একাত্মতাবোধ করার পরিবর্তে সত্যের পতাকাতলে সমবেত হবে।
(২) “ইহাদের অন্তরে আল্লাহ্ ঈমানকে সুদৃঢ় করেছেন।” অর্থাৎ তাদের অন্তরে বিশ্বাস বা ঈমান অনপনেয় কালিতে অঙ্কিত হয়ে যায়। তারা কখনও আল্লাহ্র সাথে মিথ্যাচারণ করবে না।
(৩) ‘রূহু’ অর্থাৎ হেদায়েতের আলো যা দ্বারা অন্তরকে অন্ধকার মুক্ত করে উদ্ভাসিত করা হয় অথবা জিবরাঈল (আ)। দেখুন আয়াত [ ২ :৮৭ ] যেখানে বলা হয়েছে আল্লাহ্ হযরত ঈসা ( আ) কে পবিত্র রূহু দ্বারা শক্তিশালী করেন। এই আয়াতে আমাদের বলা হয়েছে যে, পূণ্যাত্মা ব্যক্তিদেরও আল্লাহ্ ‘রূহু ‘ দ্বারা তাদের ঈমানকে বৃদ্ধি করতে ও শক্তিশালী করতে সাহায্য করেন। যখনই কোন মোমেন বান্দা তাঁর আত্মাকে সকল পাপ মুক্ত করে পূত পবিত্র রাখে এবং সেই আত্মাকে সে আল্লাহ্র প্রতি আনুগত্য ও ভালোবাসাতে নিবেদিত করে আল্লাহ্ তা গ্রহণ করেন এবং প্রতিদান স্বরূপ আল্লাহ্র অনুগ্রহ প্রার্থীদের ঈমানকে আরও সুদৃঢ় করেন। শুধু তাই-ই নয় তাদের ঈমানকে সুদৃঢ় ও মজবুত করার জন্য আল্লাহ্ তাদের পবিত্র রূহু দ্বারা সাহায্য করেন। এই ‘রূহৃ’ বা পবিত্র আত্মা বা হেদায়েতের আলোকে কোনও মানুষের ভাষাতে বর্ণনা করা সম্ভব নয় – এ হচ্ছে আল্লাহ্র বিশেষ গুণবাচক উপাধি যা মনুষ্য ভাষাতে বর্ণনা করা যায় না।
(৪) পূণ্যাত্মাদের জন্য আল্লাহ্র সন্তুষ্টি লাভের পুরষ্কারের বর্ণনা করা হয়েছে এই আয়াতে। মানব জীবনের সর্বোচ্চ লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য যা বর্ণনা করা হয়েছে আধ্যাত্মিক মুক্তি বেহেশতের বর্ণনার মাধ্যমে। পৃথিবী সৃষ্টির আদিকাল থেকে যে মানব সৃষ্টির স্রোতধারা বয়ে চলেছে কোন অনাদি ভবিষ্যতের পানে – মনে হয় মানব সভ্যতার এই স্রোতধারা মহাকালের গর্ভে হারিয়ে যায়। কিন্তু প্রকৃত সত্য হচ্ছে কিছুই হারায় না। মানুষ সৃষ্টির লক্ষ্য হচ্ছে পৃথিবীতে পূত পবিত্র,জীবন যাপনের মাধ্যমে আল্লাহ্র প্রতি আনুগ্রত্য প্রদর্শন করে পরলোকের অনন্ত জীবনে বেহেশত বা আধ্যাত্মিক প্রশান্তির অধিকারী হওয়া। পবিত্র জীবন যাপন এবং ঈমান বা আল্লাহ্র প্রতি বিশ্বাস ও একান্ত আনুগত্য এই-ই হচ্ছে পরলোকে মুক্তির পথ। যে তা লাভ করে পৃথিবীতে সে শুধু যে তাঁর আত্মার মাঝে অপার বেহেশতি শান্তির পরশ অনুভব করে তাই ই নয়; তার চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যেরও আমূল পরিবর্তন ঘটে যায়। সৃষ্টির আদিতে আত্মার যে পবিত্রতাসহ সে জন্মলাভ করেছিলো, যে সব গুণাবলী সে স্রষ্টার নিকট থেকে লাভ করেছিলো, পূত-পবিত্র জীবন যাপনের দ্বারা এবং স্রষ্টার প্রতি বিশ্বাস ও আনুগত্যের মাধ্যমে সে আত্মার আদি অবস্থা প্রাপ্ত হয় যা তার জন্য বয়ে আনে অপার শান্তির অনুভূতি। এই অনুভূতি আর কিছু নয় এ হচ্ছে বান্দার প্রতি আল্লাহ্র সন্তুষ্টির প্রকাশ। ” আল্লাহ্ তাদের প্রতি সন্তুষ্ট হয়েছেন এবং তারাও তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট ” এই বাক্যটিতে সন্তুষ্টিকে বর্ণনা করা হয়েছে পারস্পরিক। এর প্রকৃত অর্থ হচ্ছে বান্দা যখন আল্লাহ্র সন্তুষ্টি লাভে সক্ষম হয় তার সর্ব সত্ত্বা, অন্তঃকরণ হয় সে আবেশে আপ্লুত। স্বর্গীয় প্রশান্তি তার সর্ব সত্ত্বাকে আচ্ছন্ন করে ফেলে। ফলে সে হয় স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ ও সন্তুষ্ট। এই পারস্পরিক সন্তুষ্টি দ্বারা প্রকাশ করা হয়েছে মানব জীবনের সর্বোচ্চ সাফল্য বা সিদ্ধি লাভ।
(৫) আয়াত ১৯ (সূরা মুজাদালা) এ যে দলের উল্লেখ ছিলো তার বর্ণনা ছিলো ‘শয়তানের দল ‘ রূপে। এই আয়াতে তার বিপরীত ভাবধারা প্রকাশ করা হয়েছে, ‘ আল্লাহ্র দল’ উল্লেখের দ্বারা। শয়তান বা পাপীর দল তাদের কৃতকর্মের দ্বারাই ধ্বংস হয়ে যাবে। অপর পক্ষে যারা ন্যায় ও সত্যের অনুসারী বা পূত পবিত্র জীবন যাপন করে এবং আল্লাহ্র প্রতি আনুগত্যে আত্মোৎসর্গ করে যাদের বলা হয়েছে আল্লাহ্র দল তারা অনন্ত জীবন লাভ করবে বেহেশতি শান্তির মাধ্যমে। যদিও সারা সৃষ্টিই হচেছ আল্লার তবুও মানুষ তার কৃতকর্মের দ্বারা শয়তানের দলে পরিণত হয়।
####‪#‎আত্মা‬ বা অন্তর বা রুহ সম্পর্কে আরও কোরআন এর আয়াত দ্বারা বিশ্লেষণ করা যায়। অভিজ্ঞ আলেম গণ এটা বিশ্লেষণ করেছেন এবং করবেন। আর লেখা বড় করলাম না। যে বোঝার, সে উপরের আয়াত সমুহ থেকে বুঝতে পারবে। আল্লাহ আমাদের কেন সৃষ্টি করেছেন তা উপরের আয়াত সমুহ থেকেও বুঝা যায়। তারপরেও একটি আয়াত দ্বারা তুলে ধরছি।
৪.“তিনিই সৃষ্টি করেছেন মরণ এবং জীবন (১), যেনো তিনি পরীক্ষা করতে পারেন তোমাদের মধ্যে কর্মে কে উত্তম (২)। এবং তিনি ক্ষমতায় পরাক্রমাশালী। বারে বারে ক্ষমাশীল”—
(সূরা মুলক, ০২)
এই সম্পর্কে তফসীর হল,তফসীর মারেফুল কোরআন
১। ‘ তিনিই সৃষ্টি করেছেন মরণ ও জীবন।’ লক্ষ্য করুন এই আয়াতে “জীবনের” উল্লেখের পূর্বে “মরণ” উল্লেখ করা হয়েছে। আয়াত [ ২ : ১৮ ] এর বর্ণনা হচ্ছে ” অথচ তোমরা ছিলে প্রাণহীন, তিনি তোমাদের জীবন্ত করেছেন, আবার তোমাদের মৃত্যু ঘটাবেন ও পুণরায় জীবন্ত করবেন, পরিণামে তাঁর দিকেই তোমাদের ফিরিয়ে আনা হবে। ” আবার সূরা [ ৫৩ : ৪৪ ] আয়াতের বর্ণনাতে মৃত্যুর উল্লেখ জীবনের পূর্বে করা হয়েছে। এ সব আয়াত থেকে সিদ্ধান্তে আসা যায় যে,
ক) পৃথিবীর জীবন শুরুর পূর্বে হয়তো আমরা ছিলাম অস্তিত্ববিহীন বা অন্যরূপে বিরাজমান;
খ) পৃথিবীতে আমরা যে ভাবে অবস্থান করছি একদিন সে জীবনের অবসান ঘটবে, কিন্তু আমাদের অস্তিত্ব ধ্বংস হয়ে যাবে না। কারণ আত্মা অমর। শুধু আত্মার সামনে থাকবে পর্দা বা বাঁধার প্রাচীর যা উল্লেখ আছে সূরা [ ২৩ : ১০০] আয়াতে ‘Barzak’ শব্দটি দ্বারা। এই পর্দার আবরণ থাকবে দৈহিক মৃত্যুর পর থেকে শেষ বিচারের পূর্ব পর্যন্ত। শেষ বিচারের দিনে এই পর্দার অবসান ঘটবে এবং পরে প্রত্যেকের জন্য হবে নূতন জীবনে যাত্রা। সে জীবন হবে অনন্ত জীবন নূতন পৃথিবীতে নূতন আঙ্গিকে যার উল্লেখ আছে সূরা [ ১৪ : ৪৮ ] আয়াতে।
২। আমরা জানি না পৃথিবীতে আগমনের পূর্বে আমাদের অবস্থান কি ছিলো, আবার পৃথিবীর জীবনকে মৃত্যুর মাধ্যমে ত্যাগ করার পরে আমাদের অবস্থান কি হবে। আমাদের চেতনা শুধু এই পার্থিব জীবনকেই ঘিরে থাকে। এ কথা কেউ যেনো মনে না করে যে জীবন শুধুমাত্র পৃথিবীর কর্মক্ষেত্রে আনন্দ উৎসবের জন্য সৃষ্টি করা হয়েছে; এ জীবন উদ্দেশ্য বিহীন, মৃত্যুই জীবনের সমাপ্তি এনে দেবে। যদিও পার্থিব জীবন শুরু করার পূর্বের অবস্থা এবং মৃত্যুর পরের অবস্থান আমরা কল্পনা করতে পারি না; কিন্তু আল্লাহ্ আমাদের জীবনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যকে নির্দিষ্ট করে দিয়েছেন এই আয়াতের মাধ্যমে। জীবনের বৃহত্তর ও মহত্তর উদ্দেশ্য রয়েছে এবং সে লক্ষ্যে পৌঁছানোর জন্য প্রত্যেককে উত্তম কর্ম বা সৎ কাজের জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করে যেতে হবে। এ পৃথিবীর জীবনে, পৃথিবীর জীবনকে আল্লাহ্ সৃষ্টি করেছেন পরীক্ষা করবার জন্য “তোমাদের মধ্যে কর্মে কে উত্তম।”
৩। মানুষ দুর্বলচিত্ত। এই দুর্বলচিত্ত মানুষ জীবনের বন্ধুর পথ অতিক্রম করে সাফল্যের স্বর্ণশিখরে পৌঁছাতে সক্ষম। কারণ সর্বশক্তিমান আল্লাহ্ তার সাহায্যে এগিয়ে আসেন। তিনি “পরাক্রমশালী ” এবং তার ইচ্ছাকে বাস্তবায়িত করতে সক্ষম। তিনি ক্ষমাশীল অন্যথায় দুর্বল মানুষের পক্ষে লক্ষ্যে পৌঁছানো সম্ভব ছিলো না।
####‪#‎তারা‬ আপনাকে রূহ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করে। বলে দিনঃ রূহ হল আমার পালনকর্তার আদেশ । এ বিষয়ে তোমাদেরকে সামান্য জ্ঞানই দান করা হয়েছে। (১৭: ৮৫)
আল্লাহ প্রদত্ত সেই আদেশ বা বিশেষ শক্তিটি যে কি? সেটা আজো অবধি বস্তু-বিজ্ঞানীদের পক্ষে জানা সম্ভব হয়নি।তবে বস্তু বিজ্ঞানীগণ বসে নেই,তারা বিরামহিন সাধনা ও গবেষনার কাজ চালিয়েই যাচ্ছেন।প্রাণবান ও প্রাণহীন বস্তুর মধ্যকার পার্থক্য নির্ণয় করে,সে পার্থক্যের সুত্র ধরে সামনে এগিয়ে গিয়ে সে বিশেষ শক্তিটির প্রকৃতি জানার চেষ্টা বিজ্ঞানীগণ বহুদিন থেকেই করে আসছেন।শত শত বৎসরের সাধনায় তারা বেশ কিছু মুল্যবান তথ্য আবিষ্কার করতে সক্ষম হয়েছেন এবং প্রাণ যে একটি শক্তি বিজ্ঞানীগণ এ সত্যটাই শুধু প্রমান করতে সক্ষম হয়েছেন।
প্রথমে উনবিংশ শতাব্দির শেষের দিকে বিখ্যাত জার্মান রসায়ন বিজ্ঞানি Baron von Riechenbach বলেছেনঃ মানুষ,গাছপালা ও পশু-পাখির শরির থেকে বিশেষ এক প্রকার জ্যোতি বের হয়।বর্তমান শতাব্দির প্রথম দিকে লন্ডনের সেন্ট টমাস হাস্পাতালের ডাক্তার ওয়াল্টার কিলনার লক্ষ্য করেন Dicyanim Dye রঞ্জিত কাঁচের ভিতর দিয়ে তাকালে মানুষের দেহের চার পাশে ছয় থেকে আট সেন্টিমিটার পরিমিত স্থান জুড়ে একটি উজ্জ্বল আলোর আভাকে মেঘের মত ভাসতে দেখা যায়।তিরিশের দশকে সোভিয়েত বিজ্ঞানী আলেকজান্ডার গুরভিচ আবিষ্কার করেন যে,জিবন্ত সবকিছু থেকেই এক ধরনের বিশেষ এক শক্তি আলোর আকারে বের হয় যা খালি চোখে দেখা যায়না।এভাবে মানুষের পেশীর টিসু,চোখের কার্ণিয়া,রক্ত এবং স্নায়ু থেকে যে শক্তি বের হয়ে আসে ডাঃ গুরভিচ তার নাম দেন Mitogenetic Radiation.
অবশেষে সে বিশেষ আলোটি ধরা দেয় জনৈক সেমিউন দাভিদোভিচ কিরলিন নামক তুখোর এক ইলেকট্রেসিয়ান কতৃক আবিষ্কৃত অদ্ভুত এক ক্যামেরায়,যার নামকরন করা হয় কিরলিন ফটোগ্রাফি।এ ফটোগ্রাফির মাধ্যমে প্রাণি দেহ থেকে বিচ্ছুরিত আলোক রশ্মির ছবি তোলা সম্ভব হয়েছে।এই আলো সূর্য বা ইলেকট্রিক বাল্বের আলোর ন্যায় সাধারন আলো নয় বরং সেটা অনেক দীপ্ত,চঞ্চল ও বর্ণিল।আরো দেখা গিয়েছে সে আলোক রশ্মির ঔজ্জল্যের উপর নির্ভর করে দেহের সামগ্রিক জিবনি শক্তি বা সুস্থতার পরিমাপ করা যায়।
কিরলিন ফটোগ্রফি আরও দেখিয়েছে যে,মানুষের শরিরে বিভিন্ন গুরত্বপুর্ন বিন্দু রয়েছে সেখান থেকে তুলনামুলক ভাবে অনেক বেশি আলোক রশ্মি বিচ্ছুরিত হয়,মনে হয় সে সব বিন্দু থেকে যেন আগ্নেয়গিরির অগ্নুতপাত হচ্ছে।কিরলিন তার ফটোগ্রাফির মাধ্যমে মানব দেহে তেমন ৭০০ টি বিন্দু চিহ্নিত করেন।কিন্তু মজার বিষয় হল আজ থেকে প্রায় ১৫০০-২০০০ বছর পুর্বে চিনের প্রাচিন আকুপাংচার পদ্ধতির চিকিৎসকগন মানব দেহে যে এমন ৭০০টি প্রাণবিন্দু আছে তার মানচিত্র এঁকেছিলেন।কিরলিনের ক্যামেরায় ধারনকৃত ৭০০টি বিন্দুর সাথে সে মানচিত্রের হুবহু মিল আছে।
####‪#‎অন্তর‬ বা হৃদয় কি?
অন্তর বা হৃদয় কে আরবীতে ‪#‎ক্বলব‬ বলে (heart) থাকে তার ঠিক বুকের ভিতর (বুক আরবীতে "‪#‎সদর‬") আর এই হৃদয় অবশ্যই ‪#‎বুকের‬ মধ্যে সবার (?) জন্য নিশ্চয়ই একটিই!!!
একটি আয়াত খেয়াল করিঃ (সূরা আহযাবঃ ৪)
مَّا جَعَلَ اللَّهُ لِرَجُلٍ مِّن قَلْبَيْنِ فِي جَوْفِهِ
► সহজ অর্থঃ আল্লাহ কোন মানুষের শরীরের মধ্যে দুইটি হৃদয় দেননি ...
ভালো করে খেয়াল করি আয়াতটা,
» প্রথম অংশঃ مَّا جَعَلَ اللَّهُ (আল্লাহ স্থাপন করেননি)
» দ্বিতীয় অংশঃ لِرَجُلٍ مِّن (কোন "রিজাল" বা পুরুষ লোকের)
» তৃতীয় অংশঃ قَلْبَيْنِ (দুইটি হৃদয় বা HEART)
» চতুর্থ অংশঃ فِي (ভিতরে বা মধ্যে)
» পঞ্চম অংশঃ جَوْفِهِ (শরীর বা BODY)
আরবী থেকে আমরা যদি সুক্ষভাবে অনুবাদ বুঝে পড়ি তাহলে দেখবো,
আল্লাহ কোন ‪#‎পুরুষ‬ মানুষের ‪#‎শরীরের‬ মধ্যে ২টি HEART দেননি ...
এর মানে কি তাহলে আল্লাহ কোন স্ত্রীলোকের শরীরে (যেহেতু বুকে একটি হার্ট থাকতে পারে) ২টি (অথবা একাধিক) হার্ট দিয়েছেন ?
উত্তর হলঃ হ্যা !!
► একমাত্র ‪#‎স্ত্রীলোক‬ যারা গর্ভবতী হতে পারে এবং তাদের ‪#‎নিজেদের‬ ‪#‎বুকে‬ একটি হৃদয় থাকে এরই সাথে তার ‪#‎শরীরে‬ (جَوْفِهِ) (পেটে)-ও তার সন্তানের আরো একটি
‪#‎হৃদয়‬ তৈরি হয়।
সুবহান-আল্লাহ!! This is the ULTIMATE Linguistic Miracle of QUR'AN. এটা অবশ্যই আল্লাহর বানী এবং সহচেয়ে সহজ ভাষায় (আরবীতে) নাজিলকৃত। (ওস্তাদ নোমান আলি খান থেকে সংকলিত)
সর্বপরি অন্তর হল শরিরের মধ্যকার একটি মাংসের টুকরা।এর দ্বারা সকল কার্যাবলি সাধিত হয়।তবে তার সকল কিছু ব্রেনে ট্রান্সফার হয়ে সেখান থেকে অনুমোদিত হয়ে কাজ সম্পাদিত হয়।
কোরানে অন্তর সম্বন্ধে যা বলা হয়েছে
إِنَّ فِي ذَٰلِكَ لَذِكْرَىٰ لِمَن كَانَ لَهُ قَلْبٌ أَوْ أَلْقَى السَّمْعَ وَهُوَ شَهِيدٌ ﴿ق: ٣٧﴾
এতে উপদেশ রয়েছে তার জন্যে, যার অনুধাবন করার মত অন্তর রয়েছে। অথবা সে নিবিষ্ট মনে শ্রবণ করে। (৫০: ৩৭) الَّذِينَ يُجَادِلُونَ فِي آيَاتِ اللَّهِ بِغَيْرِ سُلْطَانٍ أَتَاهُمْ كَبُرَ مَقْتًا عِندَ اللَّهِ وَعِندَ الَّذِينَ آمَنُوا كَذَٰلِكَ يَطْبَعُ اللَّهُ عَلَىٰ كُلِّ قَلْبِ مُتَكَبِّرٍ جَبَّارٍ ﴿غافر: ٣٥﴾
যারা নিজেদের কাছে আগত কোন দলীল ছাড়াই আল্লাহর আয়াত সম্পর্কে বিতর্ক করে, তাদের একজন আল্লাহ ও মুমিনদের কাছে খুবই অসন্তোষজনক। এমনিভাবে আল্লাহ প্রত্যেক অহংকারী-স্বৈরাচারী ব্যক্তির অন্তরে মোহর এঁটে দেন। (৪০: ৩৫)
وَلَقَدْ ذَرَأْنَا لِجَهَنَّمَ كَثِيرًا مِّنَ الْجِنِّ وَالْإِنسِ لَهُمْ قُلُوبٌ لَّا يَفْقَهُونَ بِهَا وَلَهُمْ أَعْيُنٌ لَّا يُبْصِرُونَ بِهَا وَلَهُمْ آذَانٌ لَّا يَسْمَعُونَ بِهَا أُولَٰئِكَ كَالْأَنْعَامِ بَلْ هُمْ أَضَلُّ أُولَٰئِكَ هُمُ الْغَافِلُونَ ﴿الأعراف: ١٧٩﴾
আর আমি সৃষ্টি করেছি দোযখের জন্য বহু জ্বিন ও মানুষ। তাদের অন্তর রয়েছে, তার দ্বারা বিবেচনা করে না, তাদের চোখ রয়েছে, তার দ্বারা দেখে না, আর তাদের কান রয়েছে, তার দ্বারা শোনে না। তারা চতুষ্পদ জন্তুর মত; বরং তাদের চেয়েও নিকৃষ্টতর। তারাই হল গাফেল, শৈথিল্যপরায়ণ। (৭: ১৭৯)
এভাবে কোরআনের প্রায় ২০ জায়গায় কলব এর কথা উল্লেখ আছে।
হাদিসে কলবের পরিচয়ে বলা হয়েছে,
নিশ্চয়ই শরিরের মধ্যে এমন একটা মাংশের টুকরা আছে যদি তা ভালো থাকে তাহলে শরিরের সমস্ত কিছুই ভালো থাকে,আর যদি তা খারাপ থাকে তাহলে শরিরের সব কিছুই খারাপ থাকে।(বুখারী)(চেলবে)
Drmm AbdulHalim MD Cardiology Carry on...........
MaShaAllah.
May Allah bless and help you.

Amirul Islam
Arif Al Islam
Arif Al Islam উক্ত ছবি টার একটু বর্ণনা দেয়া যাক..................

এটা হিন্দু রা খুব বিশ্বাস করে যে মানব দেহ নাকি ৭ টা চক্রে বিভক্ত। এই চক্র গুলো কে কেন্দ্রিভুত বা উন্নত করতে পারলে মানুষ নাকি আধ্যাত্মিক ও অলৌকিক ক্ষমতা লাভ করে।


এজন্য তারা জগ ব্যায়াম করে থাকে যা আমার কাছে ভণ্ডামি ছাড়া আর কিছুই মনে হয় না।

যাই হোক, এই চক্র গুলকে একত্ত্রে কুণ্ডলিনী শক্তি বলে। তারা এটা বিশ্বাস করে।

আর এই কুণ্ডলিনী শক্তি জাগরিত করতে পারলে মানুষ নাকি সব দিক দিয়ে শক্তিশালি হয়ে যায়।

যা আমার কাছে হাস্যকর ও কুসংস্কার মনে হয় কারন তাদের ধর্ম কুসংস্কার ও অশ্লীলতায় ভরপুর একটা ধর্ম।

ইসলাম এ এগুলোর কোন স্থান নেই।

৭- সহস্র চক্র (Crown chakra)
৬- আজনা চক্র ( Third Eye chakra)
৫- বিশুদ্ধ চক্র ( Throat Chakra)
৪- অনাহাতা চক্র ( Heart Chakra)
৩- মনিপুর চক্র ( Solar plexus chakra)
২- স্বাদিষ্ঠান চক্র ( Sacral Chakra)
১- মুলধর চক্র (Root chakra)
Amirul Islam
Amirul Islam Arif vai >>.ata sufi badder bissasider chitro >.thaole kee hindu ar sufibad akee jinis?
Arif Al Islam
Arif Al Islam হিন্দুরা এটা মানে আর এটা হিন্দু ধর্ম থেকেই এসেছে।

আর সূফী রা হচ্ছে আসলে অনেকটা আকবরের দিন ই ইলাহি মানে ৭০% হিন্দু আর ৩০% ইসলাম নিয়ে গড়া নতুন ধর্মের বিশ্বাসী।


লালন ফকির ও এদের মধ্যেই পড়ে। এই সূফী রা আসলে মালাউন। মুসলিম না।
Asfer Saleh
Asfer Saleh হিন্দু খ্রিষ্টান ইহুদী বৌদ্ধ প্রায় একুই ধারনার অনুসরণ করে + সুফী

No comments:

Post a Comment