Monday, 16 November 2015

হিদায়া গ্রন্থ : মাযহাবীরা তাদের ইমাম, পীর-দরবেশদেরকে প্রভু বানিয়ে নিয়েছে



★ মাযহাবীরা তাদের ইমাম, পীর-দরবেশদেরকে প্রভু বানিয়ে নিয়েছে★


===================================


যেসব মাযহাবী 'আলিমগণ ফরয তৈরী করে এবং ফরয রহিত করে এবং হালালকে হারাম আর হারামকে হালাল ফাতওয়া দিয়েছে তারা নিজেদেরকে প্রভু সাব্যস্ত করেছে (নাউযুবিল্লাহ)। আর যারা এসবের অনুসরণ করছে তারা কি অবস্থায় আছে তা বলার অপেক্ষা রাখেনা। আশা করছি পাঠকগণই তা উপলব্ধি করতে পারবেন।


কারন ফরযের হুকুম, রহিতকরণ এবং হালাল হারামের বিধান জারী করা একমাত্র আল্লাহর ক্ষমতা। কিন্তু দেখা যাচ্ছে মাযহাবীরা হালালকে হারাম এবং হারামকে হালাল ফাতওয়া জারী করেছে। আমি আমার মনগড়া কথা বলছিনা। মাযহাবী কিতাবাদিতেই এইসব ফাতওয়া বিদ্যমান রয়েছে। নিন্মে তার কিছু নমুনা আপনাদের সামনে তুলে ধরছি।




→ বিঃদ্রঃ- মাযহাবী ভাইয়েরা! আমাদের গালাগালি করার আগে এসব ফাতওয়ার ব্যাপারে সঠিক প্রমাণ পেশ করুন।




১)- হিদায়া গ্রন্থে বাবুল ওয়াতীতে আছে: "যে সকল নারীর সাথে বিবাহ চীর হারাম, তাদের যারা বিবাহ করে মিলন করবে, ইমাম আবু হানিফার মতে তাদের উপর হদ জারী করা যাবেনা। (হিদায়া দেওবন্দ ইউ.পি ইন্ডিয়া ১৪০১ হিজরীতে মুদ্রিত ও আশরাফী হিন্দ ছাপা, ৫১৬ পৃষ্ঠা)।


→২)- মাকতাবে থানভী দেওবন্দ সাহারানপুর ইউ.পি ইন্ডিয়া ১৪০০হিঃ প্রেসে মুদ্রিত হিদায়াতে আছে :


"আবু হানিফা রহঃ বলেন, সকল প্রকার মাদকদ্রব্য হারাম নয়।" (হিদায়া কিতাবুল আশরিবা, ৪র্থ খন্ড, ৪৯৬ পৃষ্ঠা)।


→৩)- আবু হানিফা রহঃ বলেন, গম,যব, মধু ভুট্টা দ্বারা তৈরী মদ হালাল যদিও তাতে মাদকতা থাকে এবং এ মদ পান করলে মদ্যপানের শাস্তি দেয়া যাবেনা। (হিদায়া ৪র্থ খন্ড, ৪৯৬পৃষ্ঠা)। মদ হালাল সম্পর্কে হিদায়ার আরও ফাতওয়া আছে। দেখুন- ৪র্থ খন্ড, ৪৯৭.৪৯৯ পৃষ্ঠা।


→৪)- খুন সম্পর্কে হিদায়ার ফাতওয়া : কোন ব্যক্তি যদি কোন শিশু অথবা কোন প্রাপ্ত বয়স্ক ব্যক্তিকে সমুদ্রে ডুবিয়ে মেরে ফেলে তাহলে ইমাম আবু হানিফার রহঃ মতে হত্যাকারীকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া যাবেনা। (হিদায়া ইউ.পি-৪র্থ খন্ড, ৫৬৬ পৃষ্ঠা)।


→৫)- চুরি, ডাকাতি, মাস্তানির কোন বিচার নেই অর্থাৎ এগুলো বৈধ মানে হালাল। (হিদায়া ২য় খন্ড, ৫৩৭. ৫৪০. ৫৪৬. ৫৫৭. ৫৫৮ পৃষ্ঠা)।


→৬)- আরবী ভাষা জানা স্বত্ত্বেও আরবী ব্যতীত অন্য যে কোন ভাষায় সালাতের তাকবীর ও ক্বিরায়াত পড়া যাবে। (হিদায়া আশরাফী হিন্দ ছাপা, ১ম খন্ড, ১০১ ও ১০২ পৃষ্ঠা)।


→৭)- ফারসি ভাষায় সালাতে ক্বিরায়াত পড়া যাবে। (নূরুল আনওয়ার- ১১ ও ১২ পৃষ্ঠা)।


→৮)- যে পশু খাওয়া হারাম তার পেশাব কাপড়ের চারভাগের একভাগে লাগলে এ কাপড়ে ইমাম আবু হানিফার রহঃ মতে সালাত পড়া জায়েয। (হিদায়া আশরাফী হিন্দ ছাপা, ৭৫ পৃষ্ঠা)।


→৯)- ইমাম আবু হানিফার রহঃ মতে মোজার উপর মাসেহ করা নাজায়েয। (হিদায়া আশরাফী হিন্দ ছাপা, ১ম খন্ড, ৬১ পৃষ্ঠা)।




সম্মানিত পাঠক! লক্ষ্য করুন। আদৌ কি এসব ফাতওয়া ইমাম আবু হানিফা রহঃ দিয়েছেন? নাকি ইমাম আবু হানিফা রহঃ এর নামে বা চার মাযহাবের নামে চালিয়ে দেওয়া হচ্ছে?? হিদায়ার লেখকসহ অন্যান্য মাযহাবী কিতাবের লেখকগণ আল্লাহ্‌ এবং তার রাসূল সাঃ যা হারাম করেছেন তা হালাল আর যা হালাল করেছেন তা হারাম করার ধৃষ্টতা দেখায়নি? তাহলে কি করে প্রচলিত মাযহাব মানা ওয়াজিব বা ফরয হতে পারে? আর হিদায়া ও অন্যান্য ফিকহের লেখকগণ আল্লাহ্‌ ও তার রাসূল সাঃ এর বিপরীত ফাতওয়া দিয়ে আল্লাহ্‌ এবং রাসূল সাঃ এর চাইতেও কি বড়ত্বের পরিচয় দেননি? এটা কি নিজেদেরকে প্রভু সাব্যস্ত করার অপকৌশল নয়?




তাদেরকে অর্থাৎ যারা হালালকে হারাম এবং হারামকে হালাল ফাতওয়া দেয় এবং যারা মান্য করে তাদেরকে আল্লাহ্‌ কি বলে আখ্যায়িত করেছেন? দেখুন-


"তারা আল্লাহ্‌ ব্যতীত তাদের আলিম এবং দরবেশদেরকে তাদের প্রভুরূপে গ্রহন করেছে। (তাওবাহ:৩১)




→উক্ত আয়াতের তাফসীর হাদীসে নাব্বীতেই রয়েছে। "আদী ইবনে হাতিম রাযীঃ হতে বর্ণিত। তিনি রাসূল সাঃ কে উক্ত আয়াত পড়তে শুনলেন। " তারা আল্লাহ্‌ ব্যতীত তাদের আলিম এবং দরবেশদেরকে তাদের প্রভুরূপে গ্রহন করেছে......আদী রাযীঃ বলেন, তখন আমি বললাম: আমরা তো তাদের পূজা বা 'ইবাদাত' করিনা। তিনি বললেন, আচ্ছা তোমরা কি এরূপ করো না যে তারা আল্লাহর হালাল ঘোষিত বিষয়গুলোকে হারাম বলে দেয় আর তোমরা তা হারাম বলে মেনে লও। পক্ষান্তরে আল্লাহ্‌ কর্তৃক হারাম ঘোষিত বিষয়গুলোকে তারা তারা হালাল বলে দেয় আর তোমরা তা হালাল বলে মেনে লও। আমি বললাম: হ্যা। তিনি বললেন, এটাই তাদের ইবাদাত'। এভাবেই তারা তাদেরকে প্রভুরূপে গ্রহন করেছে। (মুসনাদে আহমাদ, তিরমিজী, কুতুবখানা রশিদিয়া, দিল্লী, ২য় খন্ড, ১৩২ পৃষ্ঠা, কিতাবুত তাওহীদ, আরবী উর্দু ১৪৬ পৃষ্ঠা; তাকভিয়াতুল ঈমান ১৬০ পৃষ্ঠা)




উপরোক্ত আয়াত ও হাদীস থেকে স্পষ্ট প্রমাণিত হয় যে, আল্লাহর নাযিলকৃত ওহী ব্যতীত যারা হালালকে হারাম আর হারামকে হালাল বলে প্রচার করবে এবং তা যারা মানবে তারা প্রভুর আসনের দাবীদার নয় কি? নাউযুবিল্লাহ!!!! এতদ্বব্যতীত যারা নিজের মতো বা ইচ্ছা অনুযায়ী আমল করে সেও নিজেকে প্রভু সাব্যস্ত করেছে এবং সে পথভ্রষ্ট গোমরাহ। যেমন আল্লাহ্‌ বলেন, "আর সে ব্যক্তি অপেক্ষা অধিকতর গোমরাহ কে হবে, যে আল্লাহর পক্ষ হতে কোন দলীল ব্যতীত স্বীয় নফসকে অনুসরণ করে চলে।"(সূরা ক্বাসাস:৫০)


আল্লাহ্‌ আরও বলেন,"আপনি কি সে ব্যক্তির অবস্থা দেখেছেন যে ব্যক্তি নিজের খাহেশকে বা নফসকে আপন মা'বুদ সাব্যস্ত করেছে। আর জ্ঞান বুদ্ধি থাকা সত্ত্বেও আল্লাহ্‌ তা'আলা তাকে পথভ্রষ্ট করে দিয়েছেন এবং কর্ণ ও অন্তরের উপর মোহর মেরে দিয়েছেন। আর তার চক্ষুর উপর ফেলে দিয়েছেন পর্দা। সুতারাং আল্লাহ্‌ গোমরাহ করার পর কে এরূপ ব্যক্তিকে হিদায়াত করবে। (সূরা জাসিয়াহ:২৩)। অতএব নিজের ইচ্ছানুযায়ী শরীয়ত তৈরী করে অথবা ইচ্ছানুযায়ী আল্লাহ্‌ ও তাঁর রাসূল সাঃ ব্যতীত অন্য কোন ইমাম, পীর দরবেশ, ওলীদের কথায় আমল করে নাযাত পাওয়া যাবেনা। মহান আল্লাহ্‌ বলেন, "তোমাদের প্রতিপালকের পক্ষ থেকে যা অবতীর্ণ করা হয়েছে তোমরা তার অনুসরণ করো এবং আল্লাহ্‌ ব্যতীত ওলীদের (সুফি, পীর, দরবেশ ইত্যাদি) অনুসরণ করো না। আর তোমরা অল্পই উপদেশ গ্রহন করে থাক। (সূরা আ'রাফ : ৩)।




কুর'আনের এ সুস্পষ্ট দলীল থাকার পরও মানুষ বিভিন্ন আলেম, ইমাম, পীর, দরবেশ ও ওলীদের কুর'আন ও হাদীস বিরোধী কথা মেনে চলে, কারন শয়তান যখন মানুষকে পথভ্রষ্ট করতে নানা রকম কৌশল করে ব্যর্থ হয় তখন শয়তান মানুষকে তার নফসের মাধ্যমে গোমরাহ করে ধংস করে। হাদীসে এসেছে - "আবু বকর সিদ্দীক রাযীঃ হতে বর্ণিত। রাসূল সাঃ বলেন, তোমাদের উপর একান্ত কর্তব্য হলো 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ' এবং ইস্তিগফার পড়া। অতএব তোমরা তা বেশি বেশি পড়ো। কেননা শয়তান বলে, আমি মানুষকে গুনাহের মাধ্যমে ধংস করি। আর তারা আমাকে 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ' এবং ইস্তিগফারের মাধ্যমে ধংস করে দেয়।


যখন আমি এ অবস্থা দেখলাম অর্থাৎ আমার সকল চক্রান্তই বিফল, তখন তাদেরকে আমি নফসের তাঁবেদারির মাধ্যমে ধ্বংস করি। আর তারা নিজেদেরকে হিদায়াত প্রাপ্ত মনে করে। (জামে সাগীর; ইবনু কাসীর, ১ম খন্ড, ৫৪০ পৃষ্ঠা)।




মন চেয়েছে ইমাম, আলেম, পীর, দরবেশ, ওলীর কথামত চলতে। আর শুরু হয়ে গেছে তাদের কথামত চলাফেরা, আমল করা। কোনদিন দলীল খোঁজে মিলিয়ে দেখার তাগিদও অনুভব হয়নি। অথচ আল্লাহ্‌ তাদের কথামত চলতে নিষেধ করেছেন (প্রমাণবিহীন)। সেদিকে কোন খেয়ালই নেই। এটাই হলো নিজেকে প্রভু সাব্যস্ত করা। এ সমস্ত লোকেদের আমল কি কোন কাজে আসবে???




আল্লাহ্‌ আমাদের সরল সঠিক পথে চলার তাওফ্বীক দান করুন। আমীন।

No comments:

Post a Comment